জীবন বাঁচাতে নিজেই কাটলেন পা, ৮ মাস পর ড্রোন দিয়ে উদ্ধার
অনলাইন নিউজ ডেক্স
যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকতে এবং পচন এড়াতে নিজের পা ছুরি দিয়ে কেটে ফেলার পর এক ড্রোন অভিযানের মাধ্যমে জীবন বাঁচিয়েছেন ইউক্রেনের এক সেনা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনীয় রণাঙ্গনে ৪৯১ দিন ধরে অবস্থান করা ৪৯ বছর বয়সী কনস্ট্যান্টিন ভ্লাসেঙ্কোকে এই মাসের শুরুতে ড্রোন দিয়ে উড়িয়ে ১৫ কিলোমিটার দূরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইউক্রেনীয় সামরিক কমান্ডারের ভাষ্যমতে, আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে ড্রোন ব্যবহার করে কোনো আহত সৈন্যকে আকাশপথে উদ্ধারের ঘটনা এটিই প্রথম। ৩০তম মেকানাইজড ব্রিগেডের সদস্য ভ্লাসেঙ্কো গত বছরের মে মাসে রণক্ষেত্রে যান এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক রুশ ড্রোন হামলায় তার বাঁ পা উড়ে যায় ও ডান পা মারাত্মকভাবে ভেঙে যায়।
হামলার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি স্কুলের বয়লার রুমের ছোট গর্তে আশ্রয় নেন ভ্লাসেঙ্কো। সেখানে কয়েক মাস অবরুদ্ধ থাকার পর ডান পায়ের হাড় বেরিয়ে পচন ধরতে শুরু করলে তিনি নিজের ছুরি দিয়ে সেটি কেটে বাদ দেন। এরপর সামরিক কমান্ডারদের নির্দেশে \'গুরুজুফ ডিফেন্স\' নির্মিত বিশেষ \'আয়ুদাগ-৬\' নামের একটি বিশাল ছয় পাখার ড্রোন ব্যবহার করে তাকে উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হয়, যা ৯০ কেজি পর্যন্ত ভার বহনে সক্ষম।
উদ্ধার অভিযানের পূর্বে একটি ড্রোনের মাধ্যমে ভ্লাসেঙ্কোর কাছে একটি নিরাপত্তা বেল্ট এবং নির্দেশনা সংবলিত মোবাইল পাঠানো হয়। মূল উদ্ধারকারী ড্রোনটি পৌঁছালে তিনি নিজেকে সেটির সঙ্গে বেধে ফেলেন। শত্রুভাবাপন্ন রুশ ড্রোনের হামলা এড়াতে আরও তিনটি \'ভ্যাম্পায়ার\' ড্রোন ও আর্টিলারি বাহিনীর টানা দুই ঘণ্টার সহায়ক হামলার মধ্য দিয়ে তাকে ৭০ মিটার ওপর দিয়ে নিরাপদে উড়িয়ে নিয়ে আসা হয়।
বর্তমানে খারকিভ শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ভ্লাসেঙ্কো জানান, দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার পর তিনি বেঁচে ফেরার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন।
সূত্র: রয়টার্স
