প্রেমের টানে হুটহাট বাংলাদেশে উড়ে যাওয়া নাগরিকদের কঠোর বার্তা চীন সরকারের
অনলাইন নিউজ ডেক্স
প্রায়শ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যায়, প্রেমের টানে চীনের নাগরিক বাংলাদেশের কোনো এক প্রত্যন্ত গ্রামে এসে হাজির। তারপর ধর্মীয় পরিচয় বদলে বিয়ের পিঁড়িতে বসে গেছেন। এলাকাবাসীর সামনে নতুন বর হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং ক’দিন পর নববধূকে নিয়ে পাড়ি দিচ্ছেন নিজ দেশে। এরপর থেকে সেই নববধূ আর নতুন জামাইয়ের কোনো হদিস পাওয়া যায় না।
এমন অসংখ্য ঘটনা সামনে এসেছে। বিভিন্ন অনুসন্ধানে জানা যায়, মূলত এসব মানব পাচার চক্রের পরিকল্পনার অংশ। বিদেশি নারী-পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার একটা প্রবল ঝোঁক রয়েছে বাংলাদেশি নাগরিকদের। বিয়ের পর বিদেশে পাড়ি দেওয়া, সেখানে সেটেল হওয়ার প্রবল তাড়না কাজ করে। এই লোভের বশবর্তী হয়ে বিদেশি নাগরিকদের সম্পর্কে খতিয়ে দেখারও প্রয়োজন মনে করে না বাংলাদেশি পরিবারগুলো। কোনোভাবে বিদেশ পাড়ি দিতে পারলেই হয় যেন!
সাম্প্রতিক সময়ে এমন ফাঁদে পড়ে যৌনকর্মী হিসেবে বিদেশে পাচার কিংবা অঙ্গ পাচারকারী চক্রের শিকারে পরিণত হয়েছেন অসংখ্য তরুণী। বিভিন্ন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চীনা নাগরিকদের সাথে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে প্রচুর। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীনা দূতাবাস।
আর তাই বাংলাদেশে বসবাসরত বা ভ্রমণরত চীনা নাগরিকদের বিয়ের জন্য অবৈধ ম্যাচমেকিং পরিষেবা বা দালালদের ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকাস্থ দেশটির দূতাবাস।
গত ১৪ই জুলাই, মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি দালাল বা এজেন্সির মাধ্যমে স্ত্রী খোঁজার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে যান, তবে তিনি মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে পারেন। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, মানব পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বনিম্ন ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্তত ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের তীব্রতা অনুযায়ী এই শাস্তির মাত্রা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া পাচার সংক্রান্ত কম গুরুতর অপরাধ বা এ ধরনের অপরাধে প্ররোচনা দেওয়ার দায়ে ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চীনা নাগরিকদের জড়িয়ে আন্তর্জাতিক বিয়ের প্রতারণার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
দূতাবাস জোর দিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক বিয়ে অবশ্যই পারস্পরিক সম্মতি ও অকৃত্রিম ভালোবাসার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ‘কনে কেনা’র মতো বিষয়গুলো প্রায়ই আর্থিক নিপীড়ন এবং শারীরিক ঝুঁকির কারণ হয়।
বিয়ে সংক্রান্ত প্রতারণা প্রতিরোধে বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা এবং নিজেদের নাগরিকদের বড় অঙ্কের অর্থ খোয়ানো থেকে বাঁচাতে সক্রিয় রয়েছে চীন সরকার।
এর আগে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, লাওস, পাকিস্তান এবং নেপালে অবস্থিত চীনা দূতাবাসগুলোও একই ধরনের সতর্কবার্তা জারি করেছিল।
বেইজিংয়ের নিজস্ব তৎপরতাও বেড়েছে। চীনের সুপ্রিম পিপলস প্রকিউরেটরেট-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত মানব পাচার ও প্রতারণামূলক ম্যাচমেকিংয়ের সঙ্গে জড়িত ১ হাজার ৫৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতারণার ধরন সম্পর্কে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে চীনা পুরুষরা স্ত্রী পাওয়ার আশায় মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদানের পর দেখেন যে তাদের বিদেশি কনেরা নিখোঁজ হয়ে গেছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে নারীদের অপহরণ করে জোরপূর্বক চীনা পুরুষদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
