প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২২, ২০২৬

ফ্রান্সের বিক্ষোভ ছড়িয়ে দিতে ১৩ দেশের ১০১ সংগঠনের তৎপরতার দাবি ফক্স নিউজের


ফ্রান্সের বিক্ষোভ ছড়িয়ে দিতে ১৩ দেশের ১০১ সংগঠনের তৎপরতার দাবি ফক্স নিউজের
ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইউরোপজুড়ে নতুন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিভিন্ন বামপন্থী, কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক সংগঠন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফ্রান্সের বিক্ষোভ আয়োজন, সমন্বয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারের সঙ্গে ১৩টি দেশের ১০১টি সংগঠন যুক্ত রয়েছে। ২০ অক্টোবর প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ক্যাওস ইনকরপোরেটেড গ্রোজ টু ১০১ গ্রুপস উইথ প্ল্যানস ফর নিউ রাউন্ডস অব ডেমোনস্ট্রেশনস’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ফক্স নিউজ জানায়, এর আগের দিন তাদের শনাক্ত করা সংগঠনের সংখ্যা ছিল ৫৪। নতুন অনুসন্ধানে সেই তালিকা বেড়ে ১০১টিতে দাঁড়িয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটির দাবি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী শনিবার, ২৪ অক্টোবর ফ্রান্সে ‘অ্যাক্ট টু’ (Acte II) নামে নতুন দফার বিক্ষোভ আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একটি ডিজিটাল মানচিত্রের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজ বলেছে, এ কর্মসূচিকে ঘিরে দেশটিতে ২১২টি বিক্ষোভ বা সমাবেশের পরিকল্পনা তালিকাভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া আগামী ২০ নভেম্বর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সমন্বিত আন্তর্জাতিক যুব ধর্মঘট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর ঘোষিত কর্মসূচিতে বিক্ষোভ, ক্লাস বর্জন, সমাবেশ, অবরোধ ও বিভিন্ন স্থাপনা দখলের মতো কর্মসূচির উল্লেখ রয়েছে। কোন ধরনের সংগঠন যুক্ত? ফক্স নিউজের অনুসন্ধানে কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক দল, ছাত্র ও যুব সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন, পরিবেশবাদী অ্যাক্টিভিস্ট, ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন, বর্ণবাদবিরোধী গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমের নাম উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, শনাক্ত করা ১০১টি সংগঠনের মধ্যে ৩৩টি ছাত্র বা যুব নেতৃত্বাধীন। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত সংগঠনগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশের নেতৃত্বে রয়েছেন শিক্ষার্থী বা তরুণেরা। বাকি সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন, অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক। ফক্স নিউজ এসব সংগঠনের মধ্যকার সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সংযোগকে ‘ক্যাওস ইনকরপোরেটেড’ এবং ‘রেড-গ্রিন অ্যালায়েন্স’ নামে বর্ণনা করেছে। সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘রেড’ বলতে বামপন্থী, কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক শক্তি এবং ‘গ্রিন’ বলতে কিছু ইসলামপন্থী সংগঠনকে বোঝানো হয়েছে। তবে ‘ক্যাওস ইনকরপোরেটেড’ কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংগঠনের নাম—এমন তথ্য প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি; এটি ফক্স নিউজের ব্যবহৃত একটি বর্ণনামূলক নাম। আরও বিস্তারিতঃ ফ্রান্সে “দাঙ্গা”, বাংলাদেশে “বিপ্লব”: আন্তর্জাতিক মহলের এই দ্বিচারিতা কেন? কোন সংগঠনগুলোর নাম এসেছে? প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিক্ষোভের প্রচার ও সমর্থনের ক্ষেত্রে BreakThrough News, CodePink এবং Party for Socialism and Liberation-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইউরোপে বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং যুদ্ধবিরোধী সংগঠনগুলোর কর্মসূচিও তুলে ধরা হয়েছে। ফক্স নিউজের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা নেভিল রয় সিংহামের অর্থায়ন বা সমর্থনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সংগঠন ফ্রান্সের বিক্ষোভের প্রচারেও ভূমিকা রাখছে। এ প্রসঙ্গে Tricontinental, CodePink ও BreakThrough News-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো সংগঠন বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানানো, প্রতিবাদের খবর প্রচার করা কিংবা একই রাজনৈতিক দাবি তুলে ধরার অর্থ এই নয় যে তারা প্রত্যেকেই সহিংসতা সংগঠিত করেছে। এসব সংগঠনের মধ্যে অর্থায়ন, নির্দেশনা, কর্মসূচি পরিচালনা এবং কেবল প্রচারের সম্পর্ক—কোনটি কোথায় রয়েছে, তা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিক্ষোভের পেছনে কী ইস্যু? ফ্রান্সের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষকসংকট, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন ব্যয়, সরকারি ব্যয়নীতি এবং সামরিক খাতে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষের সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বামপন্থী সংগঠনগুলোর একটি অংশ এসব অসন্তোষকে পুঁজিবাদ, সরকারি কৃচ্ছ্রসাধন, সামরিকীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় নীতির বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দিতে চাইছে। তবে এই ব্যাখ্যা ফক্স নিউজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মূল্যায়ন; আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব ব্যক্তি বা সংগঠনের উদ্দেশ্য একই—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও প্রমাণ প্রয়োজন। প্রতিবেদনটিতে ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের অংশগ্রহণের অনুমানের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য কোন সংগঠন বা ব্যক্তিরা দায়ী, তা নির্ধারণে পৃথক তদন্ত ও যাচাই প্রয়োজন। সামনে কী কর্মসূচি? ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর ফ্রান্সে ‘অ্যাক্ট টু’ নামে নতুন বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। এর পাশাপাশি ২০ নভেম্বর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক যুব ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রচারপত্রে শ্রমিক অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ, সামরিকীকরণ, কৃচ্ছ্রসাধন ও পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিরোধিতাকে কর্মসূচির মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফ্রান্সের চলমান বিক্ষোভ কতটা আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং সংগঠনগুলোর মধ্যে সহযোগিতার প্রকৃতি কী—তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনটি সম্ভাব্য সাংগঠনিক সংযোগের একটি বিস্তৃত তালিকা তুলে ধরলেও, তালিকাভুক্ত সব সংগঠন সহিংসতা পরিচালনা করছে বা একই কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার আগে স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।