বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের হালাল ট্যুরিজম গড়ে তোলার আশাবাদ


বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের হালাল ট্যুরিজম গড়ে তোলার আশাবাদ
বাংলাদেশে হালাল ট্যুরিজম ও মুসলিমবান্ধব আতিথেয়তা খাতের বিকাশে পারস্পরিক সহযোগিতার আশাবাদ জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার ইসলামিক সংগঠন মাপিম এবং ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড-এর নেতারা। রোববার (১৭ মে) মালয়েশিয়ায় মাপিমের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় হালাল ট্যুরিজম, মুসলিমবান্ধব আতিথেয়তা, হালাল খাবার এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের হালাল পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় মাপিমের প্রেসিডেন্ট তুয়ান হাজি মোহদ আজমি বিন আবদ হামিদ এর সঙ্গে বৈঠক করেন ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডি এম এমদাদুল হকসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আলোচনায় উভয়পক্ষ বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং মুসলিম পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্মত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত অঞ্চল কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের হালাল ট্যুরিজম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মাপিম প্রেসিডেন্ট তুয়ান হাজি মোহদ আজমি বিন আবদ হামিদ বলেন, বিশ্বজুড়ে মুসলিম পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে মুসলিমবান্ধব সেবা ও অবকাঠামোর চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে জ্ঞান বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ খাতে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্র সৈকত, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন মুসলিমবান্ধব হোটেল, রিসোর্ট ও হালাল খাদ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড মনে করে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এ ধরনের সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প, হালাল অর্থনীতি এবং মুসলিমবান্ধব আতিথেয়তা খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয় ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ ও কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে হালাল ট্যুরিজম শিল্পের বিকাশে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।