গুগলের ফ্রি ১৫ জিবি স্টোরেজ বন্ধ হওয়ার খবরটি কি সত্য?


গুগলের ফ্রি ১৫ জিবি স্টোরেজ বন্ধ হওয়ার খবরটি কি সত্য?
জিমেইল ব্যবহারকারীদের জন্য গুগলের দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘ফ্রি ১৫ জিবি ক্লাউড স্টোরেজ’ সুবিধাটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ নির্ভুল নয়। গুগল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, তারা বিনামূল্যে ১৫ জিবি স্টোরেজ দেওয়ার নিয়মটি পুরোপুরি বন্ধ করছে না। তবে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে তারা একটি নতুন নিয়ম বা মডেল পরীক্ষা করে দেখছে, যেখানে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা এবং স্টোরেজের পরিমাণকে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন এই পরীক্ষাটি যেভাবে কাজ করছে আপাতত পরীক্ষাধীন এই নতুন নিয়মটি শুধুমাত্র ‘নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে’ প্রযোজ্য হবে এবং এটি বিদ্যমান ১৫ জিবি ফ্রি সুবিধাটি বাতিল করবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যখন নতুন একটি গুগল অ্যাকাউন্ট খুলবেন, তখন প্রাথমিকভাবে তাকে মাত্র ৫ জিবি স্টোরেজ (মোট ফ্রি স্টোরেজের এক-তৃতীয়াংশ) দেওয়া হবে। ব্যবহারকারী যখন তার অ্যাকাউন্টে একটি সচল ফোন নম্বর যুক্ত করে সেটি ভেরিফাই বা যাচাই করবেন, তখনই কেবল তার স্টোরেজ বাড়িয়ে পূর্ণ ১৫ জিবি করে দেওয়া হবে। গুগল জানিয়েছে, সাধারণত অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ফোন নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে অ্যাকাউন্ট তৈরির সময় যদি গুগলের সিস্টেমে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ, স্প্যাম বা জালিয়াতির ঝুঁকি শনাক্ত হয়, তবে ফোন নম্বর দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতে পারে। আর এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থার অধীনে ফোন নম্বর না দিলে ব্যবহারকারীকে ৫ জিবি স্টোরেজ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। গুগলের যুক্তি কী? হঠাৎ এমন উদ্যোগ নেওয়ার কারণ হিসেবে গুগলের পক্ষ থেকে বার্তা, ‘এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো আমাদের ব্যবহারকারীদের উন্নত মানের স্টোরেজ সেবা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ও ডেটা রিকভারি (তথ্য উদ্ধার) ব্যবস্থা জোরদার করতে উৎসাহিত করা।’ ব্যবহারকারীরা ফোন নম্বর যুক্ত করলে অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করা সহজ হয়, যা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি এটি ভুয়া বা বট দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাজার হাজার স্প্যাম অ্যাকাউন্ট তৈরি করা প্রতিরোধে সাহায্য করে। প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট পিউনিকওয়েব প্রথম এই পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনে। তারা মূলত রেডিটের একটি থ্রেড থেকে তথ্যটি পায়, যেখানে এক ব্যবহারকারী নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে গিয়ে এই ৫ জিবি স্টোরেজের সীমার মুখোমুখি হয়েছিলেন। ইন্টারনেটে এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রযুক্তিপ্রেমী ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, গুগল মূলত নিজেদের স্বার্থে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর হাতিয়ে নিতে স্টোরেজ আটকে রাখার মতো কৌশল ব্যবহার করছে। অন্য কয়েকজন ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যে সেবা এতদিন বিনামূল্যে পাওয়া যেত, তা পাওয়ার জন্য এখন নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি বিসর্জন দিতে হচ্ছে। গুগলের এই নতুন পরীক্ষাটি আসলে বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বের একটি বড় পরিবর্তনেরই অংশ। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থিক জালিয়াতি কমানো এবং ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার অজুহাতে আজকাল প্রায় সব বড় প্ল্যাটফর্মই ব্যবহারকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কঠোর থেকে কঠোরতর নিয়ম তৈরি করছে। সূত্র: সামা টিভি