“সবাই মিলে শেখ হাসিনা ঠেকাই” এর ২০২৬ এর নির্বাচনে “যতগুলো ওনারা দিয়েছেন” সংখ্যক আসনে নির্বাচিত হয়ে ২১ শে আগস্টের “তারেক ভাই গ্রেনেডওয়ালা” এবং তার অর্থমন্ত্রী আখমা চৌধুরী সংসদে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাজেট দিয়েছেন। বাজেট যদিও ৯৫% বাঙালির জন্য সবসময় “আরেকটা দিন নষ্ট” টাইপের অনুভূতির মতো। কিন্তু একটু চশমা খুলে দেখলে এটার মধ্যে অনেক কিছু লুকানো দেখতে পাবেন।
আসেন আমার মতে প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু লুকানো এজেন্ডা দেখার চেষ্টা করি।
১) বাজেটের উদ্দেশ্য কি? এই বাজেট না দিলে কি হয়?
শেখ হাসিনার সময় বাজেট দেয়া হতো একটা ভিশনকে সামনে রেখে। যেমন ধরেন: ডিজিটাল বাংলাদেশ, স্মার্ট বাংলাদেশ। এটাকে ঘিরে যা দরকার তার জন্য বাজেটকে সাজানো হতো।
আমির সাহেব বাজেট দিয়েছেন অনেকটা রিকনস্ট্রাকশন এবং রিহ্যাবিলিটেশন কে সামনে রেখে। এর মানে হচ্ছে প্রস্তাবিত বাজেটের মূল উদ্দেশ্য যে অর্থনীতি বাংলাদেশের ছিলো তা “পুনরুদ্ধার” করা।
এতে বিএনপি সরকার স্বীকার করে নিয়েছেন যে আওয়ামী লীগ সরকার দেশ ভালো চালিয়েছেন, ইউনুস-জামাত-আর্মি মিলে এটাকে খারাপ করেছে, তারা এটাকে ঠিক করতে চান। ব্যাঙ্কিং এবং রাজস্ব আহরণ খাতে যে দুর্দশা বিরাজমান, তাতে এই উদ্দেশ্য ঠিক আছে।
কিন্তু এতো বড় অংকের বাজেটের কোনো দরকার ছিলোনা। এই বাজেটার টাকা সঙ্কুলান করতে সরকারকে আরও বেশি টাকা ঋণ করতে হবে এবং গরিব মানুষের উপর ট্যাক্স বসাতে হবে। যেটা ইতিমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি।
আমার হিসেবে, অনেকদিন পর ক্ষমতায় আসাতে বিএনপি এই বড় অংকের বাজেটের একটা বড় অংশ লুট করবে। বড় কিছু প্রজেক্টের ছায়ায় এই বিপুল পরিমাণ টাকা খুব কম সময়ের মধ্যে লুট করার চেষ্টা তারা করবে। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতে এইধরনের কিছু প্রকল্পের কথা ইতিমধ্যে বলা হচ্ছে।
২) ২৬-২৭ এ অতিরিক্ত ৩০% আয় লাগবে ২৩-২৪ এর সমপরিমাণ ক্রয়ক্ষমতার জন্য:
প্রস্তাবিত বাজেটে করই শুধু বাড়ছে তাই না, মূল্যস্ফীতি বাদ দিয়ে আসল আয় কমে যাবে ২৩-২৪ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনায় প্রায় ২২.৬% (৯,০০,০০০ টাকা বাৎসরিক আয়, ৭.৫% প্রস্তাবিত মূল্যস্ফীতি ধরে)। ২৩-২৪ এ যেখানে ট্যাক্স দেয়ার পর আয় থাকতো ৮,৪২,৫০০, সেখানে ২৬-২৭ সালে তা হবে ১,৯০,৪০০ টাকা কমে ৬,৫২,১০০ টাকা (টেক-হোম) আয়।
আর মূল্যস্ফীতি যদি না কমে বেড়ে এখনকার মতো হয় (১০% এর কাছাকাছি), তাহলে এই আয় ৬,৫২,১০০ থেকে কমে হবে ৬,২০,২০০ টাকা। এতে ২০২৩-৩৪ সালের তুলনায় বাড়িতে নেয়ার মতো নেট আয় কমবে প্রায় ২,২২,৩০০ টাকা। তার মানে আপনার কেনার ক্ষমতা ২০২৩-২৪ সালের তুলনায় কমে যাবে প্রায় এক চতুর্থাংশ (২৬.৪%)।
যদিও আপনার এফেক্টিভ ট্যাক্স রেইট ৭.০৮% ই থাকছে। একটু অন্য ভাষায় বললে, ২৬-২৭ সালে আপনার মোট আয় বাৎসরিক প্রায় ৩০.৮% বেড়ে ১১,৭৭,০০০ টাকা হলে আপনি ২৩-২৪ এর সমপরিমাণ ক্রয় ক্ষমতায় থাকবেন।
৩) জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির হার:
প্রবৃদ্ধির হার অর্জন করা অসম্ভব। ২৩-২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকার প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করেছিলেন ৭.৫%। মোটামুটি অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও ধারে কাছেও যেতে পারেননি। কিন্তু বিএনপি বৈরী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে ধার করে এই প্রবৃদ্ধির হার নিতে চায় ৬.৫% এ। এটা বিলাসিতা শুধু নয়, অজ্ঞতা।
একইভাবে মূল্যস্ফীতির হার ৬.৫% ছিলো ২৩-২৪ সালে। বিএনপি ২৬-২৭ সালে এটাকে বর্তমানের ৯.৬% থেকে প্রস্তাবিত ৭.৫% এ নামতে চায়। এটাও অসম্ভব প্রস্তাব। আমেরিকার সাথে চুক্তির কারণে বেশিদামে আমাদের পণ্য কিনতে হবে। দেশজ উৎপাদনও কমে আসবে যদি চুক্তি মেনে ভর্তুকি না দেয়া হয়। যার কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়বে।
৪) ২৩-২৪ এর তুলনায় অতিরিক্ত ৫% বেশি ঋণ এবং সুদ দিতে হবে:
ঋণ এবং সুদের পিছনে ২৩-২৪ সালে বাজেটের ১৫% খরচ হয়েছিলো। এখন তা হবে ২০%। বাজেট ডেফিসিট হবে ২৬%। ২০% ঋণ এবং সুদের মানে হচ্ছে এক টাকাও শিক্ষা কিংবা স্বাস্থ্য খাতে খরচ করার আগেই প্রতি ১০০ টাকায় ২০ টাকা ব্যাংক এবং বিনিয়োগকারীরা পাবে।
তাও আবার সব ব্যাংক পাবে না। ইউনুস-মনসুর আমলের মতো টপ ৫টি ব্যাংক এইধরনের সুবিধা ভোগ করবে। সরকারের অতিরিক্ত ঋণের কারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য টাকা থাকবেনা। কর্মসংস্থান আরও কমবে, আরও বেশি মানুষ দরিদ্র্য হবে।
৫) খাতওয়ারি বাজেটে আছে সুভংকরের ফাঁকি:
৫.১) শিক্ষা খাত
বিএনপি প্রস্তাবিত বাজেটের ১৪.৬% রেখেছে শিক্ষা খাতে, যা ২৩-২৪ এর আওয়ামী লীগ সরকারের ১১.৯% তুলনায় ২.৭% বেশি মনে হচ্ছে। ফাঁকি হচ্ছে যদি জিডিপির তুলনায় দেখা যায় তাহলে ২৬-২৭ এ বিএনপির শিক্ষা বাজেট প্রস্তাবিত জিডিপির ২% হবে যেখানে তিন বছর আগের আওয়ামী লীগের বাজেটে শিক্ষা খাতে বাজেট ছিলো তখনকার জিডিপির ১.৭৬%। তাহলে এটা শুধুই সংখ্যার ফাঁকি।
প্রশ্ন থাকতে পারে যে কেনো আমরা জিডিপির সাথে তুলনা করছি। এজন্য যে, ইউনেস্কো যে ব্যারোমিটার ব্যবহার করে খাতওয়ারি অবদান মাপার জন্য তা জিডিপি ভিত্তিক। শিক্ষা খাতে ইউনেস্কোর প্রস্তাবিত বরাদ্দ হচ্ছে জিডিপির ৪-৬%। বাস্তবে, হওয়া ভবন বাজেটের আকার বেড়েছে কিন্তু উকার কমেছে।
৯,০০০ নতুন মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ দিবে বিএনপি। দুপুরে খাবারের জন্য রাখা হয়েছে ১১,৭৯৮ কোটি টাকা। প্রাইমারি স্কুলের উন্নয়নের জন্য রাখা হয়েছে ১৪,০৬১ কোটি টাকা। তার মানে প্রায় ২৬,০০০ কোটি টাকা এক বছরের প্রাইমারি স্কুলের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০০৯-২০১৫) সালে বাজেট ইউটিলাইজেশন ৯৯% পর্যন্ত উঠলেও, ইউনুস রেজিম এই ব্যবহার কমিয়ে করেছে মাত্র ৫৩%। এজন্য এই টাকাটা হয়তো পুরোটাই নেতাদের পকেটে যাবে। একদিকে প্রাইমারি স্কুলের জন্য টাকা খরচ বাড়ছে, কিন্তু স্কুলে পরীক্ষা দিতে আগে যেখানে কোনো ফি লাগতো না এখন সেখানে ফি লাগবে। এটাকে অনেকে স্কুল শিক্ষায় অনাগ্রহ তৌরির উৎস হিসেবে দেখছেন।
৫.২) স্বাস্থ্য খাত
এই খাতে বরাদ্দও শিক্ষা খাতের মতো – মোট বাজেটের ৭.৪% যেটা ২৩-২৪ এর চেয়ে ২.৪% বেশি কিন্তু জিডিপিতে অতিরিক্ত দুই বাজেটের ব্যবধান হচ্ছে মাত্র ০.২৭%। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী জিডিপির ৫% স্বাস্থ্য খাটে বরাদ্দ থাকতে হয়।
ইতিমধ্যে বিশ্বব্যপী পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। টিকা না কেনার কারণে মারা গেছে প্রায় ৭০০ এর মতো বাচ্চা, যাতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় লাখের উপর। ১৪,০০০ এর মতো কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হবে। এগুলোর পরিবর্তে একটা নতুন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। এর সাথে থাকবে স্বাস্থ্য কার্ড।
এইসব প্রজেক্ট থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে নতুন নতুন প্রজেক্ট করে বাজেটের টাকা নিজেদের পকেটে নেয়ার ব্যবসা করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতে শেখ হাসিনার সরকার প্রায় ২০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছিলো। সেখানে সব ফেলে দেয়ার কোনো দরকার ছিলোনা। কিন্তু ২০ বছরের ভূখা বিএনপি নেতাকর্মী এবং তাদের লেজ ধরে দেশে ঢুকে পড়া বিদেশিদের টাকা লুটের ব্যবস্থা করতে এই বাজেট দেয়া হয়েছে।
৫.৩) জ্বালানি খাত
২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫,০০০ মেগাওয়াট জ্বালানি জোগানের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০% নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে আসবে। সোলার প্যানেলের আমদানির উপর কর মওকুপ ২০৩১ সাল পর্যন্ত। সোলার থেকে পাওয়া জ্বালানির উপর কর মওকুফ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত।
বাস্তবে যে ১৭,০৪৫ কোটি টাকা জ্বালানি খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে তা নাকি প্রাথমিক বরাদ্দের চেয়ে ২৩% কম। এর মধ্যে জ্বালানি নিয়ে ঘটে গেল বিরাট কাণ্ড। ফ্যাক্টরি চলছে অর্ধেক ক্যাপাসিটি নিয়ে।
জুলাই এর পুরস্কার হিসেবে এলএনজি কিনতে হচ্ছে আমেরিকান কোম্পানির কাছ থেকে – তাও অনেক বেশি দামে। ২৬টি নতুন গ্যাস কূপ খনন করার জন্য অনেকটা লুকিয়ে একটা দেশ থেকে কোম্পানিদের আহ্বান করা হয়েছে। এলএনজির জন্য বর্তমানে মাত্র ৯.৫% লেভি থাকলেও সোলারের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৯৩%।
এর মধ্যে যা চেপে যাওয়া হচ্ছে তা হলো, বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বড় দাগে ঋণ নির্ভর। এই ঋণ সমস্যার সমাধান না করে, শুধু কিছু ট্যাক্স হার পরিবর্তনে জ্বালানি নিরাপত্তা আসবেনা। অথচ মাত্র দুই বছর আগেও বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নিরাপত্তার ব্যপারে বিদেশীরাও ভালো কথা বলা শুরু করেছিলো।
৫.৪) ব্যবসার পরিবেশ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ
পুরনো ওয়ান স্টপ সেবাকে নতুন মোড়কে (আবার প্রকল্প) “বাংলাবিজ” প্ল্যাটফর্মে শুরু করা হচ্ছে। ৫ বছর মেয়াদি লাইসেন্স দেয়ার কথা বলা হচ্ছে ৭-দিনে, যেখানে প্রসেসিং এর জন্য সময় বলা হচ্ছে ১-৩ মাস। ডিজিটাল ট্যাক্স ফাইলিং শুরু হবে বলা হচ্ছে কিন্তু ডিজিটাল অডিটিং এন্ড অ্যাসিওরেন্স এর সম্পর্কিত বড় কোম্পানি সম্প্রতি দেশ ছেড়ে গেছে।
দুই বছরের বেশি সময়ে যখন তৈরি পোশাক খাতে বিনিয়োগ কমেছে এবং রপ্তানি কমেছে বড় দুইটা মার্কেটে – যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে সেমিকন্ডাক্টর কিংবা হাইটেক খাতে ১.৫% ফ্যাসিলিটেটর ফি দিয়ে নতুন বিনিয়োগ করবে কে এজন্যই মালয়েশিয়া এবং চায়না সফরে গেছেন তারেক রহমান? এইসব ইন্ডাস্ট্রির কাঁচামাল আসবে কোথা থেকে?
যে দেশে ৭০% মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে, তাদের দেশে বিনা কাঁচামালের জোগানে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি করা কার মাথা থেকে আসলো? বরং মিলিটারি ইকুইপমেন্ট তৈরি করার যে প্রচেষ্টা হচ্ছে ভবিষ্যতে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার জন্য, সেটা বরং বিশ্বাস করা যায়।
ভালো পরিবেশ না থাকলে শুধু বড় প্রেজেন্টেশন আর আকাশ থেকে “নারায়ে তাকবির” বলে লাফ দিলেই এফডিআই বাড়বে না, এটা এখন প্রমাণিত। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে এফডিআই কমে হয়েছে মাত্র ৩১১ মিলিয়ন ডলার। আমেরিকার সাথে বানিজ্য চুক্তির কারণে প্রতিবছর সরকার রাজস্ব হারাবে ১৩২৭ কোটি টাকা।
এদিকে কালো থাকা সাদা করা নিয়ে টি-২০ ম্যাচ খেলা শুরু করেও আপাতত বৃষ্টির কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। এই ধরনের অবস্থায় যখন আইএমএফ না করে দিয়েছে, এই অভাব চায়নাকে দিয়ে পোষানোর চেষ্টা করে “দেশে হা@মা#স” আছে এই ন্যারেটিভ ইতিমধ্যে দাড়িয়ে গেছে। এমতাবস্থায় দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসার সপ্ন দেখাটাও একধরণের শয়তানি।
৫.৫) ব্যাংকিং এবং পুঁজিবাজার
দেশের মোট ১৮ ট্রিলিয়ন টাকা লোনের মধ্যে ৬০% ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায় ৩৫% (২০২৬ এ কমে ৩২%) খেলাপি ঋণ। এর পরিমাণ টাকার অংকে ৬ লাখ কোটি টাকার উপরে। সেখানে মাত্র ৪০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে দুর্বল ব্যাংকের পুনঃপুঁজিবিন্যাস এর জন্য।
২৪ সালের জুন যেখানে মাত্র ১৩% খেলাপি ঋণ ছিলো, তা কেন মাত্র ১৮ মাসে ৩২% এ পৌছালো? সোজা উত্তর মব এবং আগুন লাগিয়ে আওয়ামী লীগ এবং সমর্থক শক্তির ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেয়াতে তাদের ভালো লোনও খেলাপি হয়েছে। কিন্তু এখনো মব হচ্ছে। বিএনপির তিন মাসে মবে মারা গেছে ১০০ এর কাছাকাছি মানুষ। এই মব সমস্যার সমাধান না করে কীভাবে ঋণ এবং ব্যাঙ্কিং খাত পুনর্ঘটন সম্ভব?
৫.৬) কৃষির অবস্থা ১৬টা
আগের বাজেটে ৪.৮% বরাদ্দ ছিলো। এবার বাজেট বড় হয়েছে কিন্তু কৃষিতে এখনও সেই ৪.৮%। তার মানে কি? মনে হচ্ছে বড় আব্বা ইজ ইন অ্যাকশন। বাকিটা পোল্ট্রি নিয়ে সরকারের আদেশগুলো পড়েন। পড়লেই বুঝবেন।
৬) ইউনূসের তৈরি করা সামাজিক সমস্যার জবাব নেই বাজেটে
৬.১) নারীরা এখন আর মানুষের পর্যায়ে নেই
১৪০০০ এর কাছাকাছি কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক বন্ধ করে নতুন যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে সেখানে ১,০০,০০০ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলা হয়েছে যার ৮০% নারীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। কিন্তু প্রতিদিন যত নারী ধর্ষিত হচ্ছে তার কয়টার বিচার হচ্ছে? নারীদের জন্য আওয়ামী লীগ যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছিলো তার পুরোটাই এখন ধ্বংসের পথে। ১৪,৫০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে ৪১ লক্ষ নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার জন্য। এটা আরেকটা সাদা হাতি প্রকল্পে রূপ নিবে যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নষ্ট হয়েছে।
৬.২) জেন-জি’দের একটাই রাস্তা খালি আছে – ছিনতাই করা
কোনো প্রশিক্ষণ কিংবা স্টার্ট-আপ ফান্ড না রেখেই ৩০০ কোটি টাকার ক্রিয়েটিভ ইয়ুথ একটিভিটি নামে একটা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে চরমপন্থা দমানোর জন্য। সিরিয়াসলি!! সরকার যেখানে নিজেই ক্ষমতায় এসেছে চরমপন্থার মাধ্যমে, প্রতিপক্ষের মিছিল দমাচ্ছে নেশাখোর কিছু চরমপন্থীকে দিয়ে, ৯০০০ নতুন মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার কথা বলছে, সেখানে এই সামান্য টাকায় পোস্টার বানানোর টাকাও হবেনা।
শিক্ষা খাতে নতুন কিছু নেই। ক্যামেরা কিনে পরীক্ষার হলে উঁকি মেরে শিক্ষার মান বাড়ানো সম্ভব নয়। ডিজিটাল অধিকার কমেছে অনেক। ডিজিটাল সার্ভিলেন্স এর জন্য বরাদ্দ বাড়ছে, কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য বাড়েনি। এদিকে পাস করে বের হওয়া ৭০% কপোত-কপোতি বেকার ঘুরছে। এই বেকার হওয়ার কারণে অনেকে “মেয়েদের ১৪ বছরের পর লেখাপড়া বন্ধ” করে বিয়ে দিয়ে দেয়ার কথা বলছেন “মুরুব্বি মুরুব্বি, উহু উহু” শ্রেণীর লোকজন।
ফ্রিলান্সার্স নিয়ে তারেক সাহেব আছেন মহা বিপদে। নিজের মেয়ের বয়সী অনেকেই এই বয়সে ফেসবুক ইউটিউবে দুই পয়সা কামিয়ে নিচ্ছিলেন। কোনো ট্যাক্স না থাকায় আওয়ামী লীগের আমলকে এই সেক্টরের জন্য “গোল্ডেন এরা” বলা যেতে পারে। তবে ইউনুস ৭.৫% থেকে ১০% পর্যন্ত ট্যাক্স নিয়ে আসার পর জেন-জি’দের কপালে একটা কালো রেখা দেখা যাচ্ছিলো।
তারেক সাহেব এখন সেই রেখা মুছে দিয়েছেন। ট্যাক্স এবং ভ্যাট জিরো করে তিনি ইউনূসের তিন জিরোর সাথে একটা যোগ করেছেন। সেই সাথে এই টিকটকার গ্রুপকে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে “I will make politics difficult for politicians” তত্ত্ব নিয়ে একটা থিসিস লেখার প্ল্যান করছেন।
৭) রেমিটেন্সে আগের মতোই ট্যাক্স ফ্রি তবে …
তবে দেশে আসলে লাগেজ নিয়ে না আসাই ভালো। রেমিট্যান্স যোদ্ধা যতক্ষণ বিদেশ থাকবে, টাকা পাঠাবে, ততক্ষণই ভালো। দেশে আসলে তাদের না পরিবার দেখতে পারে, না সরকার সহ্য করতে পারে। লাগেজ কেটে নিয়ে যাচ্ছে ঘামে শুকানো, রক্তে কেনা সামান্য উপহার – তাও পরিবারের জন্য কেনা, নিজের জন্য না।
তবে ভানু’দার মতো “আমার একখান কথা আছে”। আগে ডলার কেনা যেতো ১০৫-১০৮ টাকায়। এখন কিনতে হচ্ছে ১২৬ এর উপরে। টাকার হিসেবে মনে হচ্ছে অনেক টাকা পাঠালাম দেশে। কিন্তু আসলে ২.৫% এর প্রনোদনা (১০% এর মূল্যস্ফীতি এবং ২০২৫-২৬ এর দশ মাসেই ২২.২১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি) আসলে কোনো কাজেই আসবে না। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে কিন্তু পকেটে যা পাচ্ছেন তার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এই অবস্থায় প্রবাসী কার্ড দিয়ে বিমানবন্দরে ৫২ নম্বর কোয়ালিটির ৫০ টাকার কফি খেতে পারবেন, কিন্তু বিল না দিলে সোজা হাজতে।
৮) অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করার সহজ উপায় কি?
সবার একই প্রশ্ন। তবে এর উত্তর বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে আর্থিক খাতের প্রথম পয়েন্টে খুব পরিষ্কার করে দেয়া আছে। সংযুক্তি দেখুন। আসল প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপি “take back Bangladesh” খেলবে নাকি “bring forward Bangladesh” খেলবে।
উপসংহার
জুলাই এর সন্ত্রাসী হামলার পর দেশের অর্থনীতি রিসেট হয়ে গেছে। এখন আর কান্নাকাটি করে লাভ নেই। সংযুক্তিগুলো দেখেন আর “I have a plan” করেন কোন পিলারের নিচে এখনও মাটি কাটা বাকি আছে।
-ড. মামুনুর রশীদ
শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ।