সুনামগঞ্জে সেতুতে আইএস জঙ্গি ধারার পতাকা টানালো উগ্রবাদীরা, শঙ্কিত স্থানীয়রা
অনলাইন নিউজ ডেক্স
সুনামগঞ্জের আব্দুজ জহুর সেতুর উভয় পাশে আইএস জঙ্গিদের ধারার কয়েকটি কলেমা খচিত পতাকা টানানোকে কেন্দ্র করে এলাকায় তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বহিরাগত একদল উগ্রবাদী যুবক গতকাল বুধবার বিকেলে প্রকাশ্যে এসব পতাকা স্থাপন করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া না গেলেও স্থানীয়দের দাবি, পতাকা স্থাপনকারীদের বেশিরভাগই এলাকার বাসিন্দা নন। তাদের আচরণও ছিল আগ্রাসী ও রহস্যজনক। পোশাক-আশাকও ছিল আইএস জঙ্গিদের অনুকরণে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন উগ্রবাদী যুবক দলবদ্ধভাবে সেতু এলাকায় এসে কিছু সময় অবস্থান করেন এবং পরে সেতুর দুই পাশে কলেমা লেখা পতাকা টানন। পতাকার ভেতরে লেখা কলেমার বর্ণ আইএস জঙ্গিদের বর্ণের প্রতিরুপ। এসময় তাদের আচরণ ছিল উগ্রতাপূর্ণ ছিল।
এসব দেখে উপস্থিত অনেকেই বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে বা প্রতিবাদ জানাতে সাহস পাননি। পাশাপাশি দেশে জঙ্গিবাদের প্রসার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পতাকাগুলোর ডিজাইন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠী বিশেষ করে আইএস জঙ্গিদের ব্যবহৃত পতাকার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। যে কারণে মানুষের মধ্যে শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা জানান।
স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের একটি অংশও এ ঘটনায় অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কলেমা মুসলমানদের কাছে পবিত্র বাক্য। এটিকে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে যত্রতত্র ব্যবহার করা সমীচীন নয়। তারা মনে করেন, ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।
এদিকে, উগ্রবাদী পতাকা টানানোর সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল না বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে। অনেকেই বিষয়টির প্রকৃত উদ্দেশ্য ও এর পেছনে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা এবং জনমনে বিরাজমান উদ্বেগ দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। রহস্যময় ওই যুবকদের খোজ খবর নেওয়াও প্রয়োজন।
