প্রিপেইড মিটারে ভৌতিক বিল কর্তনের অভিযোগ, মধ্যরাতে বিদ্যুতহীনতার ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা
অনলাইন নিউজ ডেক্স
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে অস্বাভাবিক হারে টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দেশের লাখ লাখ গ্রাহক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে প্রিপেইড মিটার ব্যাবহারকারীরা অভিযোগ করছেন মধ্যরাতে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স শূন্য হয়ে বিদ্যুৎ চলে যাবার আর অস্বাভাবিক হারে কার্ডের টাকা কেটে নেয়ার।
সাধারনত মিটারের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে ইমার্জান্সি ব্যলান্স নিয়ে সকাল দশটার আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতো না, সেখানে মধ্যরাতেই ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স শেষ হয়ে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। মধ্যরাতে কার্ড রিচার্জের বুথগুলো বন্ধ থাকে ফলে বায়বহারকারীরা কার্ড রিচার্জ করতে ব্যার্থ হচ্ছেন। এর ফলে তীব্র গরমের রাতে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় নির্ঘুম কাটাতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাবহারকারীরা অভিযোগ করেন, প্রিপেইড মিটারে আগে এক হাজার টাকা রিচার্জে এক-দুই সপ্তাহ নির্বিঘ্নে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যেতো, গত কিছুদিনে তা এক রাতেই ফুরিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করছেন অনেকে। বাধ্য হয়ে বিদ্যুত ব্যাবহারকারীদের নির্বিঘ্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি জুন মাসের শুরু থেকে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার কার্যকর হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগ প্রিপেইড মিটার গ্রাহকদের ২০০ থেকে ২৪০ ডিজিটের একটি বিশেষ টোকেনের মাধ্যমে মিটার আপডেট করতে নির্দেশ দিয়েছে। দীর্ঘ এই টোকেন সঠিকভাবে ইনপুট করতে ব্যর্থ হলে রিচার্জ সফল না হওয়া কিংবা নতুন ট্যারিফ স্ল্যাব অনুযায়ী হিসাব পরিবর্তনের কারণেও ব্যালেন্স দ্রুত কমে যাওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ এটিকে সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এর বাইরে, প্রতিবছর মে-জুন মাসে অর্থবছর সমাপনীর (ক্লোজিং) সময় বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল আসার অভিযোগ নতুন নয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক সাবেক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে আগে জানিয়েছিলেন, জুন ক্লোজিংয়ে রাজস্ব আদায় বেশি দেখাতে অতিরিক্ত রিডিং ধরে বিল করার প্রবণতা থাকে, যা পরে সমন্বয় করা হলেও ততক্ষণে গ্রাহককে ওপরের স্ল্যাবে গিয়ে বাড়তি অর্থ গুনতে হয়। ২০২০ সালেও এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ছয় বিতরণ কোম্পানির শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছিল।
গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাড়তি বিলের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই আশ্বাসের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, এর আগে কখনো মধ্যরাতে এমন ভৌতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। গ্রাহক অধিকারকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি প্রতিটি অস্বাভাবিক বিলের বিস্তারিত প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
