নরসিংদীর কানখেকো সেই বিএনপি নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
অনলাইন নিউজ ডেক্স
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এক বালু ব্যবসায়ীকে মারধর এবং কান কামড়ে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেন ১৪ই জুলাই, মঙ্গলবার রাতে পলাশ থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলাটি করেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়া। মামলায় তার নামসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, গত ১৩ই জুলাই বিকেলে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাংলাদেশ জুটমিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাখাওয়াত হোসেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ফিরোজ আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকদের মতে, তার কানে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন, ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুটমিলের ভেতরে টিকে গ্রুপের নির্মাণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বালু ভরাটের কাজ করছিলেন তিনি। এ কাজের জন্য শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে একটি ড্রেজার মেশিন স্থাপন করা হয়েছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, “বিকেলে ড্রেজার মেশিনের শ্রমিকদের বেতন দিয়ে ফেরার পথে চারজন লোক মোটরসাইকেলে এসে আমাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিনের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে মহিউদ্দিনসহ সাতজন আমাকে মারধর করে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “একপর্যায়ে মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাকে না জানিয়ে সেখানে ড্রেজার মেশিন বসালি কেন?’—এ কথা বলে তিনি আমার কানে কামড় দেন, এতে কান রক্তাক্ত হয়ে যায়।”
সাখাওয়াত হোসেনের দাবি, পরে অভিযুক্তরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেজার মেশিন সরিয়ে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এরপর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন বলেন, “এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা করেছেন ওই ব্যবসায়ী। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
