টেকনাফে চাঞ্চল্যকর একরামুল হক হত্যাকাণ্ড: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ সেনা হেফাজতে
অনলাইন নিউজ ডেক্স
কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার অভিযোগে তৎকালীন র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনাবাহিনী হেফাজতে নিয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সোমবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সোমবার রাতে (প্রায় ১০টা ৩৯ মিনিটে) হেফাজতে নেওয়া হয়। তাকে ঢাকা সেনানিবাসে আনা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি ঢাকা সেনানিবাসের স্বপ্নচূড়া-১ ভবনের ৫১৬ নম্বর কক্ষ থেকে স্থানান্তরিত হয়েছেন।
ঘটনার পটভূমি
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের কিরণতলী এলাকায় হোটেল নেটংয়ের সামনে থেকে একরামুল হককে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভ সাগরতীরে র্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি নিহত হন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৪৬ বছর। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা (যুবলীগের সাবেক উপজেলা সভাপতি) ছিলেন।
র্যাব তখন তাঁকে ‘ইয়াবার শীর্ষ গডফাদার’ বলে অভিহিত করে। তবে পরিবারের দাবি এবং প্রকাশিত অডিও রেকর্ডিংয়ে হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত বলে অভিযোগ ওঠে। একরামুলের স্ত্রী আয়েশা বেগমের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় গুলির শব্দ শোনা যায় বলে জানা যায়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা
গত রোববার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ হত্যাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিযোগ দাখিল করা হয়। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান, মেজর (অব.) রুহুল আমিন (রাজন), স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস মাহমুদ (রাজু) এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান (সৈকত)।
প্রসিকিউশনের দাবি, সাবেক এমপি বদির রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ হত্যার ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ করা হয়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
মিফতাহ উদ্দিনের ভূমিকা ও নিষেধাজ্ঞা
মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ তখন র্যাব-৭-এর কমান্ডিং অফিসার ছিলেন। হত্যার পর তিনি একরামুলকে ‘ইয়াবার গডফাদার’ বলে মন্তব্য করেন। ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট তাঁসহ র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
এ ঘটনা দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
