ট্রাইব্যুনালে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে ক্ষুব্ধ লতিফ সিদ্দিকী, বললেন— ‘ফাঁসি দিয়ে দেন’
অনলাইন নিউজ ডেক্স
শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির করা হয়। এর আগের দিন বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, হেফাজতে ইসলামের ওই সমাবেশ পণ্ড করা এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে আয়োজিত একটি দলীয় বৈঠকে লতিফ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন, এবং এই মামলায় তিনি ১০ নম্বর আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত।
আদালতে ক্ষোভ প্রকাশ
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই আদেশের পরপরই আদালতকক্ষে নাটকীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়—হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন সাবেক এই মন্ত্রী, কিন্তু কথা বলার সুযোগ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি বলতে থাকেন যে আদালতকে তিনি ফাঁসি দিয়ে দেওয়ার কথা বলতে চেয়েছিলেন এবং তিনি তার জন্য প্রস্তুত।
তাঁর এই প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট, বিচার প্রক্রিয়ায় নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ না পাওয়া নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ট্রাইব্যুনালের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: ট্রাইব্যুনালের বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, লতিফ সিদ্দিকীর এই ক্ষোভ প্রকাশ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মানদণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশ্ন উঠেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমে বিদ্যমান ঘাটতি ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এসব দুর্বলতার কারণে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।
তবে এই প্রশ্ন ওঠাকে একপক্ষ ট্রাইব্যুনালের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ হিসেবে দেখছে, অন্যপক্ষ মনে করছে এটি বিচারপ্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করার আহ্বান মাত্র—বিচার প্রক্রিয়া বাতিলযোগ্য নয়। মামলার পরবর্তী শুনানি ও লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আনীত নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিচার কীভাবে এগোয়, তার ওপর নির্ভর করছে এই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ।
