আন্দোলন-বিপ্লবে পড়াশোনায় ভাটা: ১৫ বছরের সর্বনিম্নে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশের হার
অনলাইন নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। বোর্ড ইতিহাসের গত ১৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে এবার সর্বকনিষ্ঠ পাশের হার নিবন্ধিত হয়েছে মাত্র ৫৯.৪৮ শতাংশ। পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে কৃতকার্য হতে পারেনি ৫২ হাজার ৭৫৬ জন শিক্ষার্থী।
উদ্বেগের বিষয় হলো, মোট পরীক্ষার্থীর ২২.০৯ শতাংশ অর্থাৎ ২৮ হাজার ৭৭১ জন শিক্ষার্থীই মাত্র ১টি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। একক বিষয়ে এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়াকেই পাসের হার ধসের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া, এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৯,৩৯৮ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছরের (১১,৮৪৩ জন) তুলনায় ২,৪৪৫ জন কম।
চট্টগ্রাম বোর্ডের ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ সময়কালে কখনোই পাশের হার ৭৫ শতাংশের নিচে নামেনি।
বিগত বছরগুলোর পাসের হার ছিল এমন- ২০১১ সালে ৭৮.৩৬%, ২০১২ সালে ৭৯%, ২০১৩ সালে ৮৮.০৭%, ২০১৪ সালে ৯১.৪২%, ২০১৫ সালে ৮২.৮৩%, ২০১৬ সালে ৯০.৪৬%, ২০১৭ সালে ৮৪.১৩%, ২০১৮ সালে ৭৫.৫৪%, ২০১৯ সালে ৭৮.১৭%, ২০২০ সালে ৮৪.৭৯%, ২০২১ সালে ছিল সর্বোচ্চ পাসের হার- ৯১.১৩%, ২০২২ সালে ৮৭.৫৩%, ২০২৩ সালে ৭৮.২৯%, ২০২৪ সালে ৮২.৮০% এবং ২০২৫ সালে ৭২.০৭%।
হঠাৎ এমন ফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অমনোযোগিতাকে দায়ী করেছেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা মূল পড়াশোনা ছেড়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনমুখী ও বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে পড়েছিল। পাঠ্যবই থেকে দূরে সরে যাওয়ার সেই নেতিবাচক প্রভাবই সামগ্রিক ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।”
এই ফলাফলের ধরন নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি অংশের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যর্থ প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে খাতা মূল্যায়নে রাজনৈতিক বলির শিকার হতে হয়েছে তাদের। সরকারের সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের কৌশলের কারণে সঠিক মূল্যায়ন থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছে বলেও দাবি অনেকের।
