পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন: পুলিশে থাকা ‘লীগের দোসর ও গুপ্তরা’ বাহিনীর মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত করছে
অনলাইন নিউজ ডেক্স
পুলিশ বাহিনীতে ‘ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের দোসর ও গুপ্তরা’ নানাভাবে পুলিশের মনোবলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে দাবি করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
ওইসব ‘গুপ্ত ও লীগ’ বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নামধারী সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি রোববার এক বিবৃতি দাবি করেছে।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন সংগঠনটি সাধারণ সম্পাদক।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশের ভঙ্গুর মনোবল যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছিল, তখন ‘পলাতক, জনবিচ্ছিন্ন শক্তি এবং কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল’ একটি পরিকল্পিত অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে বলে তাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।
সরবারবিরোধী আন্দোলনে দমন-পীড়নের ঘটনায় ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন কারাগারে রয়েছেন। একটি মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।
এছাড়া আরেক মামলায় তখনকার ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমান তিন পুলিশের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা পলাতক কিংবা নিখোঁজ রয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ৫ই আগস্ট তাদেরকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়ে থাকতে পারে।
বিপ্লবের নামে পুলিশ সদস্যদের হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখে তথাকথিত জুলাই বিপ্লবীরা
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, পুলিশ বাহিনীর বাইরে ও অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টদের দোসররা দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নামধারী সাংবাদিকের কাছে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করছেন। এসব তথ্যের সত্যতা, প্রেক্ষাপট ও যথার্থতা যাচাই না করে কথিত সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা সেগুলোকে অতিরঞ্জিত করে নানা মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর গল্প তৈরি করছেন এবং নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করছেন।
বিষয়টিকে দুঃখজনক দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের অপতথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা ক্রমেই ব্যক্তিবিশেষ থেকে শুরু করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এমনকি পুলিশের বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধে কুৎসা ও অপপ্রচারে রূপ নিচ্ছে। এর ফলে দায়িত্ব পালনে ফিরে আসা পুলিশ সদস্যদের মনোবল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর কর্মস্পৃহা ও কার্যক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
৫ই আগস্ট-পরবর্তী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর মনোবল ও পেশাগত সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এই সংগঠন।
বিবৃতিতে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ধারণ সম্পাদক দাবি করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য, গুজব কুৎসামূলক প্রচারণার মাধ্যমে বাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার এই অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত শুধু পুলিশ বাহিনীকে নয়, ক্ষতিগ্রস্ত করছে রাষ্ট্র, দেশের জনগণ এবং একটি স্বাভাবিক, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশাকে।
সংগঠনটির মতে, ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীগত স্বার্থ কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একটি সুশৃংখল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে এই ধরনের দায়িত্বহীন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হতে পারে না। এটি একই সঙ্গে পেশাগত নৈতিকতা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার পরিপন্থি।
এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং পুলিশ বাহিনীকে পরিকল্পিতভাবে ‘দুর্বল ও বিতর্কিত করার’ অপচেষ্টার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কর্মকান্ড যথাযথভাবে শনাক্ত করে প্রচলিত আইন, বিধি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
