রাজধানীর অন্যতম বড় ফলের পাইকারি বাজার বাদামতলী ঘাটে ফলবাহী ট্রাক থেকে নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত পার্কিং ফি’র বাইরে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে কয়েক দফায় টাকা নেওয়া হচ্ছে। কখনো রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে, আবার কখনো পুলিশের নাম করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন তারা।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকার অনুমোদিত পার্কিং ইজারার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। কোথায় ট্রাক রাখা হচ্ছে, গাড়ি থেকে সরাসরি ফল বিক্রি হচ্ছে কি না কিংবা কতক্ষণ ট্রাকটি অবস্থান করছে—এসবের ওপর ভিত্তি করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালক ও ব্যবসায়ীরা।
নির্ধারিত ফি ১০০, আদায় করা হচ্ছে কয়েক হাজার টাকা
সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাদামতলী ঘাট এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সদরঘাট থেকে বাবুবাজার সেতু পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কের এক পাশে সারি সারি ফলের আড়ত, অন্য পাশে বুড়িগঙ্গা নদী। ওয়াইজঘাটের দিকে রাস্তার পাশে অন্তত ৩০টি ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। অন্য ট্রাকগুলো রাখা হয়েছে নির্ধারিত পার্কিং এলাকায়।
ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একই ট্রাক থেকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দুই থেকে তিন দফায় টাকা নেওয়া হয়। গাড়ি থেকে ফল বিক্রি, ফল নিলাম কিংবা খালি ট্রাক পার্কিং—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আলাদা অর্থ দিতে হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
অথচ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্ধারিত হার অনুযায়ী প্রতি তিন ঘণ্টায় একটি ট্রাকের পার্কিং ফি ১০০ টাকা।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ট্রাক তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই পণ্য খালাস করে চলে যায়। সে হিসাবে সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ সত্য হলে নির্ধারিত ফির তুলনায় তা প্রায় ২০ গুণ বেশি।
সরেজমিনে কাগজ মার্কেট, গ্লাস মার্কেট, বাবুবাজার সেতু, মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গের সামনের এলাকা এবং ওয়াইজঘাট—এই পাঁচটি পয়েন্টে সাদা কাগজ ও কলম হাতে কয়েকজনকে বিভিন্ন যানবাহন থেকে টাকা তুলতে দেখা যায়।
রাসেল ফুড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির একটি ট্রাক থেকে আঙুর নিলামে বিক্রি করছিলেন রাকিব। তার দাবি, ট্রাক থেকে ফল নিলাম ও বিক্রির জন্য ৩ হাজার টাকা দিতে হয়। নির্ধারিত দিনে ফল বিক্রি শেষ না হলে অতিরিক্ত অর্থও নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা ট্রাকচালক নাসিরুল বলেন, ফল বিক্রির পর খালি ট্রাক পার্কিং করতেও তাকে ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। তার প্রশ্ন, পার্কিং ফি কীভাবে নির্ধারিত হয়, তা চালকদের কাছে পরিষ্কার নয়। কারণ একেক ট্রাক থেকে একেক অঙ্কের টাকা নেওয়া হচ্ছে।
সমিতির জন্য আলাদা চাঁদা ৩০০ টাকা হারে
ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রপ্তানি ও ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা, নিরাপত্তাপ্রহরী, লাইনম্যান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতনসহ বিভিন্ন খরচের জন্য সদস্যদের ফলবাহী ট্রাকপ্রতি ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়।
তার দাবি, সমিতির নিয়ম মেনেই এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে সমিতির ব্যাংক হিসাবে ৫ কোটির বেশি টাকা রয়েছে এবং কয়েক বছর পরপর সঞ্চিত তহবিল ২ হাজার ২০০-এর বেশি সদস্যের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
তবে ইজারাদারের পক্ষ থেকে ট্রাকপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
ব্যবসায়ীরা জানান, বাদামতলী এলাকায় মূল অর্থ আদায়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ মহানগর শ্রমিক দলের (ক্ষমতাসীন বিএনপির অঙ্গ সংগঠন) সভাপতি ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী সুমন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে।
সাদা খাতা হাতে টাকা সংগ্রহ করতে দেখা যাওয়া খোকন দাবি করেন, তিনি সংগৃহীত অর্থ সোহরাব ও মিজানের কাছে জমা দেন। পরে সেই অর্থ সুমন ভূঁইয়ার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
খোকনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ পার্কিংয়ের জন্য ১ হাজার টাকা, গাড়ি থেকে সরাসরি পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা এবং ট্রাক থেকে সরাসরি ফল নিলাম করলে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পণ্য খালাসের পর খালি ট্রাকের জন্যও ৪০০ টাকা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অর্থ সংগ্রহের কাজে যুক্ত অন্তত ছয়জন ব্যক্তি বিএনপির যুব সংগঠন যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
ঝিনাইদহ থেকে ওয়াইজঘাটে ড্রাগন ফল নিয়ে আসা ট্রাকচালক মোহাম্মদ নূরান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর রাস্তার পাশে ট্রাক রাখার জন্য টাকা দেওয়া নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, আগে এ ধরনের টাকা দিতে হতো না। টাকা আদায়কারীরা সবাই বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সরাসরি রাজনীতির সাথে জড়িত। তাদের সাথে তর্ক করা বিপদ, পরে ট্রাক ঢুকতে দিবে না আর এখানে।
ব্যবসায়ী মো. পরাগ আলী জানান, ওয়াইজঘাটে আম খালাসের জন্য তাকেও ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। তিনি জানান, প্রায় এক দশক ধরে ঢাকায় পণ্য আনলেও রাস্তার পাশে ট্রাক রাখার জন্য আগে কখনো এভাবে টাকা দিতে হয়নি।
ইজারা নিয়ে প্রশ্ন
বাদামতলীর পার্কিং ইয়ার্ডটি ২০২৪ সালে এক বছরের জন্য ৯৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। ইজারাটি পান মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের মধ্যপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ আবদুল করিম ওরফে করিম হাজী।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর তিনি নিরপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে ইজারা হস্তান্তর না হলেও পার্কিং এলাকার নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় যুবদল ও শ্রমিক দল নেতাদের হাতে চলে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
বিআইডব্লিউটিএর তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে করিম হাজী ২০২২ সালে আদালতে মামলা করেন এবং ইজারার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানান। আদালতের নির্দেশের পর পুরোনো ইজারা মাসভিত্তিক বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সুমন ভূঁইয়া কোতোয়ালি থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমেদ হোসেন সোবহান এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল হাওলাদারকে সঙ্গে নিয়ে পার্কিং ও অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছেন।
তবে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুমন ভূঁইয়া। তার দাবি, এলাকায় তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে অনেকে নিজেদের স্বার্থে তার নাম ব্যবহার করেন।
আওয়ামী লীগ নেতা করিম হাজী আত্মগোপনে যাওয়ার পর তারা প্রতি মাসে ইজারার টাকা পরিশোধ করে পার্কিং পরিচালনা করছেন বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, তার সঙ্গে আরও দুজন বিষয়টি দেখাশোনা করেন।
সুমন ভূঁইয়া আরও দাবি করেন, ট্রাকচালকেরা নিজের পকেট থেকে এই অর্থ দেন না; ব্যবসায়ীরাই এসব ব্যয় বহন করেন। তার মতে, এটি টেন্ডারের অর্থ এবং দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে আদায় হয়ে আসছে।
তবে সরকারি সড়কে পার্কিংয়ের জন্য অর্থ আদায়ের অনুমোদন টেন্ডারে নেই—এ কথা তিনি স্বীকার করেন। তার বক্তব্য, জায়গার সংকটের কারণে কিছু ট্রাক সাময়িকভাবে সড়কের পাশে রাখা হয়।
সাক্ষাৎকার চলাকালে বিআইডব্লিউটিএর তিন কর্মকর্তা সুমন ভূঁইয়ার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং তাকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। তবে ইজারা বিষয়ে তারা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পরে সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা জানান, অন্য একটি ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন।
পুলিশের বিরুদ্ধেও টাকা আদায়ের অভিযোগ
শুধু ইজারাদার বা স্থানীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নয়, বাদামতলীতে পুলিশের বিরুদ্ধেও ট্রাকচালকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
ওয়াইজঘাট এলাকায় উপপরিদর্শক (এসআই) আরমানের নেতৃত্বে কোতোয়ালি থানার একটি টহল দলকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক থেকে ৩০০ টাকা করে নিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চালকদের ভাষ্য, টাকা না দিলে মামলার ভয় দেখানো হয়।
ঢাকা মেট্রো ঠ-১১-৬০৭৫ নম্বরের পুলিশ পিকআপে থাকা ওই দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন মো. বাবুল (ছদ্মনাম)। তার দাবি, পুলিশকে ৩০০ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি ওয়াইজঘাটে প্রবেশের পর বিভিন্ন ব্যক্তিকে কোনো রসিদ ছাড়াই আরও প্রায় ৯৫০ টাকা দিতে হয়েছে।
বাবুলের অভিযোগ, ডিউটিতে পুলিশের কোনো টিম এলেই টাকা নেওয়া হয় এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সদস্যরা প্রথমে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। পরে ছবি ও ভিডিও ফুটেজ থাকার বিষয়টি জানানো হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যরা দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর হবে না বলে জানান।
এসআই আরমান এসময় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও করেন।
ওই টহল দলে নজরুল, মিলন ও অমল নামে তিন পুলিশ সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও একজন সদস্য থাকলেও তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ট্রাকচালকদের অভিযোগ, গাবতলী, শ্যামপুর ও মাজার রোড এলাকাতেও ফলবাহী ট্রাক থেকে একইভাবে টাকা চাওয়া হয়।
বাড়তি খরচের চাপ যাচ্ছে ভোক্তার ওপর
বাদামতলী বাজারে ৭ থেকে ৮ কেজি ওজনের কালো আঙুরের একটি ক্যারেট ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় নিলামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। একই আঙুর ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, পার্কিং ফি, অননুমোদিত অর্থ আদায় এবং পরিবহনসংক্রান্ত বাড়তি খরচ তাদের ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচের একটি অংশ ফলের খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, পার্কিং ফি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনকেও জানানো হয়েছিল। তিনি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এ ছাড়া সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ বিআইডব্লিউটিএর কিছু কর্মকর্তার কাছে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।
বিআইডব্লিউটিএর বক্তব্য
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মো. মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, ইজারাদার পার্কিং ইয়ার্ডে একটি ট্রাকের কাছ থেকে প্রতি তিন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নিতে পারবেন।
তিনি বলেন, নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ লিখিতভাবে জানানো হলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
করিম হাজীর মামলার বিষয়ে তিনি জানান, ২০২২ সালে করা মামলার পর আদালতের নির্দেশে পুরোনো ইজারার মেয়াদ মাসভিত্তিক বাড়ানো হচ্ছে। এ কারণে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে করিম হাজীর নামেই প্রতি মাসে পেমেন্ট চালান তৈরি হচ্ছে।
তার ভাষ্য, আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নতুন করে ইজারা দেওয়া সম্ভব হবে।
অন্যদিকে সুমন ভূঁইয়া বিআইডব্লিউটিএর পেমেন্ট চালানের রসিদ দেখিয়ে দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর করিম হাজী আত্মগোপনে যাওয়ার পর থেকে তিনিই প্রতি মাসে ইজারার টাকা ও ভ্যাট পরিশোধ করে আসছেন।
বাদামতলী ঘাটে নির্ধারিত পার্কিং ফি, ইজারার বৈধতা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ—এই তিনটি বিষয় এখন পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।
একদিকে বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত ১০০ টাকার ফি, অন্যদিকে ট্রাকচালকদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ; ফলে পার্কিং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ( ঢাকা ট্রিবিউন)
