অবিবাহিত বন্ধুকে যে কথাগুলো বলবেন না


অবিবাহিত বন্ধুকে যে কথাগুলো বলবেন না
বন্ধুত্ব এমন এক সম্পর্ক, যেখানে বয়স, পেশা কিংবা সামাজিক পরিচয়ের পার্থক্য অনেকটাই গৌণ। সুখের মুহূর্তে আনন্দ ভাগাভাগি করা থেকে শুরু করে বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানো, জীবনের নানা পর্যায়ে একজন ভালো বন্ধু হয়ে উঠতে পারেন সবচেয়ে বড় ভরসা। তবে ঘনিষ্ঠতা যতই বেশি হোক, বন্ধুর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় কিছুটা সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো বন্ধু অবিবাহিত হলে তার বিয়ে কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে করা ছোট একটি মন্তব্যও কখনো কখনো তাকে বিব্রত বা কষ্ট দিতে পারে। তাই বন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও কিছু কথা এড়িয়ে চলাই ভালো। ‘বিয়ে কবে করছ?’ বন্ধুদের বেশির ভাগের বিয়ে হয়ে গেছে, কিন্তু একজন এখনো অবিবাহিত, এমন পরিস্থিতিতে তাকে বারবার বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করা উচিত নয়। ‘কবে বিয়ে করবে?’ কিংবা ‘কবে আংটি পরবে?’, এ ধরনের প্রশ্ন শুনতে সাধারণ মনে হলেও এতে ওই বন্ধু অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। কারণ, বিয়ে করাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়। কেউ হয়তো নিজের বর্তমান জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট। ‘চিন্তা করো না, এখনো অনেক সময় আছে’ বন্ধুর বয়স নিয়ে এমন মন্তব্যও না করাই ভালো। ‘এখনো সময় আছে’ বলার মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃতভাবেই তার মনে বয়স নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। তাই বন্ধুর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সময় ও সুযোগ দেওয়া উচিত। ‘কেন বিয়ে হচ্ছে না, সমস্যাটা আমি জানি’ কোনো বন্ধুর বিয়ে না হওয়ার কারণ খুঁজে বের করে নিজের মতামত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে তিনি নিজে এ বিষয়ে কিছু জানতে না চাইলে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিশ্লেষণ করা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বন্ধুত্বের জায়গা থেকে পরামর্শ দিতে হলেও আগে তার প্রয়োজন বা আগ্রহ আছে কি না, সেটি বিবেচনা করা উচিত। ‘তুমি তো খুব খুঁতখুঁতে’ জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক মানুষের পছন্দ ও প্রত্যাশা আলাদা। কোনো সম্পর্ক বা প্রস্তাব পছন্দ না হলে বন্ধুকে ‘খুঁতখুঁতে’ কিংবা ‘বেশি বাছবিচার করো’ বলা তার আত্মসম্মানে আঘাত করতে পারে। তার পছন্দকে নিজের মানদণ্ড দিয়ে বিচার না করাই ভালো। ‘তোমার তো কোনো গতি হলো না’ অবিবাহিত বন্ধুকে ‘বিয়ে করলে না, শেষ বয়সে কী করবে?’ এ ধরনের কথা বলাও একেবারেই উচিত নয়। বৈবাহিক অবস্থার সঙ্গে একজন মানুষের ভবিষ্যৎ সাফল্য, সুখ বা নিরাপত্তাকে সরাসরি মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়। একজন মানুষ কীভাবে জীবন কাটাবেন, সেটি তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বন্ধুত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া। তাই বন্ধুর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত প্রশ্ন না করে তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করাই ভালো। বিয়ে করবেন কি না, কখন করবেন, এ সিদ্ধান্ত প্রত্যেক মানুষের নিজের। বন্ধুর পাশে থাকা মানে তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করাও।