জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসভবনে বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপির হামলা
অনলাইন নিউজ ডেক্স
রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা জি এম কাদেরের বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আজ ১২ই অক্টোবর, সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত তার ব্যক্তিগত বাসভবনে এই হামলা চালানো হয়। হামলার সময় জি এম কাদের বাসভবনের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির কর্মীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার ঠিক আগে ‘সাধারণ জনগণ’-এর ব্যানারে দেড়শ থেকে দুইশো জনের একটি বিক্ষোভ মিছিল জি এম কাদেরের বাসার সামনে আসে। মিছিলে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভকারীরা জি এম কাদের ও ভারতের বিরুদ্ধে নানা ধরনের আক্রমণাত্মক স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে মিছিল থেকে জি এম কাদেরের বাসভবন লক্ষ্য করে সশ্রদ্ধ ও ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ এবং ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগান তুলে জি এম কাদেরের বাসায় ইট-পাটকেল ছুড়তে দেখা যায়।
হামলাকারীদের ব্যবহৃত ব্যানারে কারারুদ্ধ অবস্থায় জি এম কাদেরের একটি প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয়। সেখানে ‘ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ; জিএম কাদেরের গ্রেপ্তার চাই’ এবং ‘হাসিনার ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’—এমন নানা কঠোর বার্তা লেখা ছিল।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি শৌর্য দীপ্ত সূর্য আজ বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে পাঠানো এক বার্তায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে জাপা চেয়ারম্যানের বাসায় হামলা চলায়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছি এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় পার্টির পরবর্তী করণীয় দ্রুতই সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইট-পাটকেল ছুঁড়ে কিংবা বাসা-বাড়ি ভাঙচুর করে কোনো নেতার মতপ্রকাশের অধিকার বা রাজনৈতিক কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না।
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা উল্লেখ করে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার জোর দাবি জানান।
ঘটনার পর খবর পেয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে হামলাকারীদের কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।
