প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৭, ২০২৬

জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নামবে বলছে বিশ্বব্যাংক, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন কি অধরা রয়ে যাবে?


জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নামবে বলছে বিশ্বব্যাংক, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন কি অধরা রয়ে যাবে?
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির নতুন হিসাব বলছে, ১লা জুলাই শুরু হওয়া ২০২৬–২৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নেমে যেতে পারে। বিনিয়োগে স্থবিরতাকে প্রবৃদ্ধির এই নিম্নমুখী পূর্বাভাসের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। পূর্বাভাসটি কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কায় প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সময়কার হারকেও ছাড়িয়ে নিচে নেমেছে। ২০১৯–২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৪৫ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩৪ সাল নাগাদ যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিএনপি সরকার, তা আরও দীর্ঘায়িত হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। যেখানে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালে ঘোষণা দিয়েছিল ২০২৫ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশের গৌরব অর্জন করবে; কিন্তু ২০২৪-এর রাজনৈতিক পালা বদল এবং অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ার পর বিএনপি সরকার এই লক্ষ্যমাত্রা পিছিয়ে নিয়ে গেছে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন এই যাত্রাকে সহজ বলে মনে করছে না। কারণ আগামী অর্থবছরেও পরিস্থিতি ভালো হবে বলে মনে করছে না সংস্থাটি। যদি যথাযথ কর্ম পরিকল্পনা নিতে পারে সরকার, তবুও বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭–২৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে মাত্র ৩.৯ শতাংশে। অথচ অর্থনীতিবিদদের প্রক্ষেপণ বলছে, ২০৩৪ সাল নাগাদ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে হলে টানা ৮-৯ শতাংশে উন্নীত করতে হবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি। অথচ দেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি দেখে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এর অক্টোবর সংস্করণে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাস কমানোর ব্যাখ্যায় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগের গতি ধীরই রয়েছে এবং রপ্তানি আয় বাড়ার হার কমেছে। এদিকে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে থাকায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হচ্ছে। ব্যবসা পরিচালনার খরচও বাড়ছে। এসব চাপের সম্মিলিত প্রভাব বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। এর আগে, ১৬ই জুন প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৬ শতাংশ। এরও আগে, ১৪ই জানুয়ারির প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ৬.১ শতাংশ। অন্যদিকে, বিএনপি সরকার ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য এডিবির সর্বশেষ পূর্বাভাসের চেয়ে ৩.১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত ১০ই জুন বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জিডিপির সাময়িক হিসাব প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৪.১৪ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব এখনো প্রকাশ করেনি এডিবি। গত অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্বর্তী সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছিল ৫.৫ শতাংশ। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য শেখ হাসিনার সরকার ৬.৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। পরে আন্দোলন-সহিংসতা ও রাজনৈতিক পালা বদলের পর দেশের অর্থনীতির ওপর আসে বড় আঘাত। ব্যাহত হয় উৎপাদন। শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে যায় রাজনৈতিক কারণে। পরে অন্তর্বর্তী সরকার সেই লক্ষ্য কমিয়ে ৫.২৫ শতাংশে আনে। যদিও শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি হয় ৩.৪৯ শতাংশ। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.২২ শতাংশ। ২০০৮–০৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫.৭৪ শতাংশ। ২০১৮–১৯ অর্থবছরে তা প্রথমবারের মতো ৮ শতাংশ ছাড়ায়। পরে সংশোধিত হিসাবে হারটি ৭.৮৮ শতাংশে নেমে আসে। এখন পর্যন্ত এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। এর পরের বছর কোভিড মহামারির প্রভাবে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৪৫ শতাংশ হয়। ২০২০–২১ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ৬.৯৪ শতাংশে পৌঁছায়। পরের বছর হারটি ৭ শতাংশ ছাড়ালেও ২০২২–২৩ অর্থবছরে আবার কমে ৫.৭৮ শতাংশ হয়। প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্যঁ পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, দেশীয় রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার দরকার। তিনি আরও বলেন, দরিদ্র মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বেশি ও উন্নত কর্মসংস্থান তৈরির জন্য জরুরি সংস্কার প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখনই। বিনিয়োগে স্থবিরতা প্রবৃদ্ধি কমার প্রধান কারণ বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান—দুটিই দুর্বল হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। খেলাপি ঋণ এবং ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি বাড়ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমছে। সামাজিক সুরক্ষা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও এর উল্লেখযোগ্য অংশ দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছায় না। অনেক সচ্ছল পরিবার এসব সুবিধা পায়, অথচ দরিদ্রতম পরিবারগুলোর বড় অংশ সামাজিক সুরক্ষার আওতার বাইরে থাকে। ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফেরানো, জ্বালানি নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করা এবং কর-রাজস্ব বাড়ানোকে প্রতিবেদনে সংস্কারের অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণ ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমিয়ে দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিনিয়োগ সংকুচিত হওয়াই প্রবৃদ্ধি কমার বড় কারণ। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ ০.৫ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং সরকারি বিনিয়োগ ০.৭ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। একই সময়ে পণ্য ও সেবার প্রকৃত রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৪.৮ শতাংশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হারও রেকর্ড পর্যায়ে নেমেছে। বড় অবকাঠামো প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন, নতুন প্রকল্প অনুমোদনে সতর্কতা এবং বাস্তবায়নের সক্ষমতা দুর্বল থাকায় উন্নয়ন ব্যয় কমেছে। শিল্প ও কর্মসংস্থানে চাপ বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২ শতাংশ। ওই অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প উৎপাদন ০.৩ শতাংশ কমে যায়। কোভিড মহামারির পর কোনো প্রান্তিকে শিল্প খাতে এটিই ছিল প্রথম সংকোচন। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতিতে বহু কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মঘণ্টা কমিয়েছে, কোথাও উৎপাদন বন্ধ ছিল, আবার কিছু কারখানায় কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ গ্যাসে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। এখন মোট চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করে মেটাতে হয়। কয়েকটি বড় গ্যাসক্ষেত্র এবং মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা রয়েছে। ফলে কোনো একটি স্থাপনায় সমস্যা দেখা দিলেই বড় এলাকায় গ্যাস সরবরাহ কমে যেতে পারে। অর্থনীতির ধীরগতির প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারেও। শিল্প ও সেবা খাতে চাকরি হারানো নারীদের অনেকেই শ্রমবাজার থেকে সরে গেছেন। নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ২০২২ সালের ৪২.৮ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে কমে ৩৮.৪ শতাংশ হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের পর নতুন শ্রমশক্তি জরিপ প্রকাশিত না হওয়ায় সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন। মূল্যস্ফীতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা কমে ৮.৭ শতাংশে দাঁড়ায়। গত আগস্টে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩ শতাংশ। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থার সমস্যা এবং অর্থ সরবরাহের প্রবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উঁচু পর্যায়ে রেখেছে। খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম প্রায় ১৬.৭ শতাংশ বেড়েছে। কম আয়ের শ্রমিকদের মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি; আগস্টে তাদের প্রকৃত মজুরি আবার ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সরকারের ব্যাংকঋণ, ভর্তুকি ও সুদসহ চলতি ব্যয়, প্রবাসী আয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার কারণে অর্থ সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু বেসরকারি ঋণ ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বাড়েনি। ফলে অর্থ সরবরাহের এই প্রবৃদ্ধি উৎপাদনের তুলনায় পণ্যের দামে বেশি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। দারিদ্র্য বেড়েছে বিশ্বব্যাংকের মডেলভিত্তিক হিসাব বলছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দৈনিক ৩ ডলারের আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের হার ১.১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ১০.১ শতাংশ হয়েছে। এক বছরে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে এই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। জাতীয় দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী, টানা চতুর্থ বছরের মতো দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ; গত অর্থবছরে তা আনুমানিক ২২.৫ শতাংশে উঠেছে। একই সময়ে আয়বৈষম্যও বেড়েছে। ব্যাংক খাতে বড় ঝুঁকি বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুতর ঝুঁকিগুলোর একটি হিসেবে ব্যাংক খাতের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০.২ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ৩৩.২ শতাংশে দাঁড়ায়। ইসলামি ব্যাংকগুলোতে হারটি ৫৮.৯ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ৪৩.২ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক মূলধন পর্যাপ্ততার হার ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশে নেমে আসে। অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম হার ১০ শতাংশ। প্রভিশন সংরক্ষণের নিয়ম শিথিল করায় ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোকে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ প্রভিশন রাখতে হয়নি। এতে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত দুর্বলতা পুরোপুরি প্রকাশ পাচ্ছে না। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া জামানতবিহীন তারল্য সহায়তার পরিমাণ ২০২৬ সালের জুনে ৭৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ছয়টি ইসলামি ব্যাংকের সম্পদের মান যাচাই শেষ হলেও অন্যান্য ব্যাংকের পর্যালোচনা এগোচ্ছে ধীরগতিতে। ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন ও আমানত সুরক্ষা আইন পাস হওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেছে বিশ্বব্যাংক। তবে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বারবার ছাড় এবং তারল্য সহায়তা দেওয়ার কারণে প্রকৃত লোকসান শনাক্ত করা ও তার সমাধানের প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাচ্ছে। রাজস্ব কম, ব্যয় বাড়ছে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড লক্ষ্যমাত্রার ৮২.৬ শতাংশ কর আদায় করেছে। মোট রাজস্ব জিডিপির ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮.৩ শতাংশ হয়েছে; এর মধ্যে কর-রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ৭ শতাংশ। সীমিত করভিত্তি, কর ফাঁকি, দুর্বল প্রশাসন এবং অতিরিক্ত করছাড় রাজস্ব বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করছে। করনীতি তৈরি ও কর প্রশাসন পরিচালনার কাজ আলাদা করার উদ্যোগও কার্যকর হয়নি। একই সময়ে সরকারের মোট ব্যয় জিডিপির ১১.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২.২ শতাংশ হয়েছে। চলতি ব্যয় ৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। বিপরীতে, মূলধনি ব্যয় ২.৮ শতাংশ থেকে কমে ২.৫ শতাংশ হয়েছে। নতুন সরকারি বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে মূল বেতন ও ভাতা গড়ে প্রায় ১২০ শতাংশ এবং পেনশন প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়তে পারে। এর ফলে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় জিডিপির প্রায় ০.৬ শতাংশ হতে পারে। সংস্কার অব্যাহত রাখার পরামর্শ ব্যাংক খাতে সম্পদের মান যাচাই দ্রুত শেষ করে কোন ব্যাংক টিকে থাকতে পারবে, তা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। ব্যাংকের মালিক, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনকে লোকসানের দায় নিতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক ছাড়গুলোও ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানি খাতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। বিদ্যুৎ কেনা ও প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। রাজস্ব বাড়াতে করনীতি ও কর প্রশাসনের দায়িত্ব আলাদা করা, সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য সমন্বয় করে কর ফাঁকি শনাক্ত করা এবং অকার্যকর করছাড় ধাপে ধাপে কমানোর সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। উদ্বেগজনক সুরে শিরোনাম প্রস্তাব: বিশ্বব্যাংকের নতুন পূর্বাভাস: প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নামার শঙ্কা বিনিয়োগে স্থবিরতা, শিল্পে সংকোচন—অর্থনীতির গতি আরও কমার পূর্বাভাস খেলাপি ঋণ ৩৩.২ শতাংশ, ব্যাংকের মূলধন ঋণাত্মক—বড় ঝুঁকির সতর্কতা এক বছরে দারিদ্র্যসীমার নিচে আরও ২১ লাখ মানুষ, বাড়ছে আয়বৈষম্য গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, নারীরাও ছাড়ছেন শ্রমবাজার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬.৫ শতাংশ, বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস ৩.৪—বড় ব্যবধান রাজস্বের চেয়ে ব্যয় বাড়ছে, উন্নয়ন ব্যয় কমছে—চাপে অর্থনীতি

সর্বশেষ :

চব্বিশ থেকে ২৬: দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ, প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে স্থবির থাকার আশঙ্কা – বিশ্বব্যাংক   চব্বিশ থেকে ২৬: দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ, প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে স্থবির থাকার আশঙ্কা – বিশ্বব্যাংক ফ্যামিলি কার্ডের নামে ৯৮ হাজার টাকা লোপাট, আরও টাকা নিতে গেলে বিএনপি নেতার স্ত্রীকে ধোলাই   ফ্যামিলি কার্ডের নামে ৯৮ হাজার টাকা লোপাট, আরও টাকা নিতে গেলে বিএনপি নেতার স্ত্রীকে ধোলাই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন   পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নামবে বলছে বিশ্বব্যাংক, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন কি অধরা রয়ে যাবে?   জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নামবে বলছে বিশ্বব্যাংক, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন কি অধরা রয়ে যাবে? আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫২ ঘরে তালা: ঘর বরাদ্দে আর্থিক অনিয়ম, সন্ধ্যায় নারী-মাদকের কারবার   আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫২ ঘরে তালা: ঘর বরাদ্দে আর্থিক অনিয়ম, সন্ধ্যায় নারী-মাদকের কারবার সেন্ট মার্টিনে জামায়াতের অনভিজ্ঞ কর্মীদের বিনা মূল্যে খৎনার পর অন্তত ৫০ শিশু অসুস্থ   সেন্ট মার্টিনে জামায়াতের অনভিজ্ঞ কর্মীদের বিনা মূল্যে খৎনার পর অন্তত ৫০ শিশু অসুস্থ বিরোধী ও সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আটক করছে বিএনপি সরকার: এইচআরডাব্লিউ   বিরোধী ও সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আটক করছে বিএনপি সরকার: এইচআরডাব্লিউ বিদেশিদের হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের একের পর এক টার্মিনাল: ঝুঁকিতে রাজস্ব, কর্মসংস্থান ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ   বিদেশিদের হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের একের পর এক টার্মিনাল: ঝুঁকিতে রাজস্ব, কর্মসংস্থান ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ