জুলাই চেতনায় তৈরি নতুন নোটের সুযোগে বাড়ছে জাল টাকার কারবার, ঝুঁকিতে ব্যবসায়ী-সাধারণ মানুষ
অনলাইন নিউজ ডেক্স
রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে জাল নোটের কারবার নিয়ে একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। বাসা ভাড়া করে জাল টাকা তৈরির ঘটনাও ধরা পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, চব্বিশের জুলাই চেতনার ধারায় তৈরি হওয়া নতুন নোট বাজারে প্রচলনকে কাজে লাগাচ্ছে প্রতারক ও কারবারিরা। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
নতুন নোট বিক্রেতাসহ ব্যবসায়ীরা এসব নোটের নিম্নমানের ছাপার কারণে প্রচলিত অর্থে ‘ছাপড়ি নোট’ বলে অভিহিত করেন। অনেকের কাছেই এসব নোটের ডিজাইন অপরিচিত বলে জাল নোটের কারণে সহজেই ধোঁকা খেয়ে যাচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁর সীমান্তবর্তী এলাকায় জাল নোটের তৎপরতা বেশি। মাদক কেনাবেচার পাশাপাশি প্রতারণার কাজেও এসব নোটের ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষত নতুন নোট সম্পর্কে মানুষের পরিচিতি কম থাকায় প্রতারণার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪ই অক্টোবর রাজশাহী মহানগরের সাহেববাজারে জাল নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইন নেওয়ার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। এর আগে, ৮ই আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দেশের ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যমানের জাল নোট ও নোট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে এসআরবি-৫।
২৮শে জুন রাজশাহীর মোহনপুরে ৯৩ হাজার টাকা মূল্যমানের জাল নোটসহ একজনকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া নাটোরের বড়াইগ্রামে ৭ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকার জাল নোটসহ মোস্তফা আলী (৪২) নামের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৫। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার রাজাপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
রাজশাহী মহানগরের সাহেববাজারের আশা জুয়েলারিতে গত ২৭শে সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া প্রতারণার বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মোস্তারি জানান, সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি দোকান থেকে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার স্বর্ণের চেইন নেন। মূল্য পরিশোধের জন্য তিনি ১ হাজার টাকার ১১৫টি নতুন নোট দেন। দোকানমালিকের বাবা সেগুলো পাশের দোকানে যাচাই করাতে গেলে নোটগুলো জাল বলে ধরা পড়ে। এর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি চেইন নিয়ে সরে যান।
এ ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে ১৩ই অক্টোবর ঢাকার খিলক্ষেত থেকে মো. রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিনই ঢাকার একটি জুয়েলারি দোকানের মালিক মো. রোমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে রাজশাহীর দোকান থেকে নেওয়া চেইনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে, একই ব্যক্তি ৬ই অক্টোবর বগুড়ার নিউমার্কেট এলাকার তামান্না জুয়েলার্সে ১ লাখ ২২ হাজার টাকার জাল নোট দিয়ে একটি স্বর্ণের চেইন নেন।
পুলিশের ভাষ্য, বগুড়ার চেইনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। একই কৌশলে চক্রটি একাধিক শহরে প্রতারণা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ৮ই আগস্ট রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বালুবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় র্যাব-৫, বর্তমানে এসআরবি। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন দেশের ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যমানের জাল নোট এবং নোট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সাল ইসতিয়াক জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি ভাড়া বাসায় নকল নোট তৈরি করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হতো। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
২৮শে জুন রাজশাহীর মোহনপুরের কেশরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯৩ হাজার টাকা মূল্যমানের জাল নোট ও ৩৮৭টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নায়েব আলী নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৫।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, এ সময় আরেকজন পালিয়ে যান। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ বলেন, জাল নোটের কারবারের মূল উৎস, সরবরাহকারী এবং এর সঙ্গে যুক্ত অর্থের প্রবাহ শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
