টেকনাফে রোহিঙ্গা ১০০ পরিবারকে নেয়া হলো নিরাপদ স্থানে


টেকনাফে রোহিঙ্গা ১০০ পরিবারকে নেয়া হলো নিরাপদ স্থানে
টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার পাঁচটি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ১০০ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাণহানি এড়াতে গত তিনদিন ধরে পর্যায়ক্রমে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ। টেকনাফের ২৫ ও ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের সিনিয়র সহকারী সচিব খানজাদা শাহরিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে গত তিনদিনে পাঁচটি ক্যাম্পের পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা ১০০ পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   ক্যাম্প ইনচার্জদের নেতৃত্বে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা নেতাদের সহযোগিতায় এসব পরিবারকে আপাতত মসজিদ, স্কুল, বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বজনদের বাসায় অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।   প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলায় বর্তমানে মোট ৭টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির রয়েছে। এগুলো হলো- নয়াপাড়া মোচনী রেজিস্টার্ড ক্যাম্প, জাদিমুড়া (২৭ নম্বর), শালবাগান (২৬ নম্বর), লেদা (২৪ নম্বর এলএমএস), আলীখালী (২৫ নম্বর), হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং (২১ নম্বর) এবং চাকমারকুল (২২ নম্বর) ক্যাম্প। এসব ক্যাম্পে সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। এর মধ্যে অনেকেই পাহাড়ের ঢালে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বাস করেন।   জাদিমুড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের চেয়ারম্যান বদরুল জানান, ‘টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের দ্রুত বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’   বৃষ্টিপাতের বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, জেলায় গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আন্তর্জাতিক নিয়ম (সকাল ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা) অনুযায়ী- গত শনিবার ২৮ মিলিমিটার, রবিবার ২৪০ মিলিমিটার, সোমবার ১২৯ মিলিমিটার, মঙ্গলবার ৬৯ মিলিমিটার, বুধবার ১২৫ মিলিমিটার এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।   এদিকে, সরিয়ে নেওয়া পরিবারগুলো যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই পুনরায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় ফিরে না যায়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। খানজাদা শাহরিয়ার জানান, স্থানান্তরিত পরিবারগুলোর নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্প এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।