তিতাসে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড: হত্যা মামলার আসামি লতিফ ভূঁইয়া নিহত, এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা
মোঃ সজিব জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় বহুল আলোচিত এক হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া (৪৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।গত
সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামের নিজ বাড়ির পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লতিফ ভূঁইয়া একই গ্রামের বাসিন্দা এবং “মেরী আপা ফ্রেন্ডস ক্লাব” নামে একটি সংগঠনের সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জামিনে কারামুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন লতিফ ভূঁইয়া। পরে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তিনি বিদেশি অস্ত্র নিয়ে জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে উত্তেজিত জনতা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। এতে তার হাত-পায়ের হাড় ভেঙে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে রিকশাভ্যানে করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম মোল্লা হত্যার প্রতিশোধ নিতেই আব্দুল লতিফ ভূঁইয়ার ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে ভিটিকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় লতিফ ভূঁইয়াকেও আসামি করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় আট মাস কারাভোগের পর তিনি সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এক হত্যার পর আরেক হত্যা, এবার কার পালা?
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
