ত্রুটিপূর্ণ আইনে কাজী জেসিনকে বিটিভির ডিজি নিয়োগ, সমালোচনার মুখে সংশোধনের চেষ্টা সরকারের
অনলাইন নিউজ ডেক্স
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে সংবাদ উপস্থাপক ও টকশো সঞ্চালক কাজী জেসিনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে আইনি ত্রুটি ধরা পড়েছে। যে আইনের আওতায় তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেটি আদৌ কার্যকর হয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর নিয়োগের প্রজ্ঞাপন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাজী জেসিনই বিটিভির মহাপরিচালক পদে বহাল থাকবেন। তবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা আইনি ভিত্তি সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার কাজী জেসিনকে বিটিভির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই প্রজ্ঞাপনে ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন-২০০১’-এর উল্লেখ করা হয়। এরপরই আইনটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিটিভিকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০০১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন’ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়। তবে আইনটি কার্যকর হওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গেজেট প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন ছিল।
আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবৎ হইবে।’
কিন্তু আইনটি সংসদে পাস হওয়ার প্রায় ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তা কার্যকর করার জন্য সরকারিভাবে কোনো গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। ফলে সংসদে পাস হলেও আইনটি এখনো কার্যকর হয়নি—এমন অবস্থায় ওই আইনের উল্লেখ করে বিটিভির মহাপরিচালক নিয়োগের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিটিভির ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন রুলস ও রেগুলেশন-সংক্রান্ত অন্তত ২২টি দলিল থাকলেও ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন-২০০১’ কার্যকর হওয়ার কোনো তথ্য বা প্রজ্ঞাপনের উল্লেখ পাওয়া যায় না।
এ নিয়ে সমালোচনা ও প্রশ্ন ওঠার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নিয়োগের প্রজ্ঞাপন সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এজন্য নতুন করে নিয়োগের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। একই স্মারক নম্বরের অধীনে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে আগের প্রজ্ঞাপনটি প্রতিস্থাপন করা হবে।
অর্থাৎ, নিয়োগের আইনি ভিত্তিতে সংশোধন আনা হলেও কাজী জেসিনের বিটিভির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
সরকারের এ উদ্যোগের ফলে নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আইনি ভিত্তি নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের অবসান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
