ন্যাটো সম্মেলনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে ৯০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি কানাডা-ইউরোপের
অনলাইন নিউজ ডেক্স
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শুরু হয়েছে ৩৬তম ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলন শুরুর আগেই কানাডা ও ইউরোপীয় দেশগুলো প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান সম্মেলনস্থলে পৌঁছানোর আগেই এসব চুক্তি সাক্ষরিত হয়।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘোষণা করেছেন, দেশটির ভবিষ্যৎ সাবমেরিন সরবরাহের জন্য জার্মান কোম্পানি টিকেএমএসকে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১২টি টাইপ-২১২ সাবমেরিন কেনা হবে, যা কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি।
এই ডিজেল-লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত হাইব্রিড সাবমেরিনগুলো একটানা ৪১ দিন সাগরে থাকতে সক্ষম এবং প্রতিটিতে থাকবে ১৪টি টর্পেডো, বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। ২০৩৪ সাল থেকে এসব সাবমেরিন হাতে পাবে কানাডা।
জার্মানি বলছে, এই চুক্তি কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলবে।
একই সঙ্গে ন্যাটো মহাসচিব সম্মেলনে ঘোষণা দেন, ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের এ৪০০এম উড়োজাহাজ দিয়ে একটি নতুন কৌশলগত এয়ারলিফট বহর গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি আকাশ থেকে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তথা ‘অ্যাওয়াক্স’ সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুইডেনের সাব কোম্পানিকে।
দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বোয়িং ই-৩ অ্যাওয়াক্স ব্যবহার করে আসছিল, কিন্তু এবার তার বদলে ১০টি সুইডিশ গ্লোবাল আই বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যরা।
কানাডার বোম্বার্ডিয়ার জেটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বিমান একটানা ১১ ঘণ্টা উড়তে পারে এবং এর রাডার ৬০০ কিলোমিটার দূরের একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম।
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের ওপর একের পর এক চাপ সৃষ্টি করেছেন — ইউরোপের ওয়াইন ও গাড়ির ওপর শুল্ক আরোপ, গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি এবং কানাডাকে “৫১তম রাজ্য” বলে আখ্যা দেওয়া। ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার দাবি এবং ইরান যুদ্ধের সময় মিত্রদের কাছ থেকে বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া নিয়েও তৈরি হয় অসন্তোষ।
এসব ঘটনার জেরে কানাডা ও ইউরোপ এখন নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে একে অপরের ও অন্যান্য মিত্রের দিকে ঝুঁকছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনীতিতে এখন ‘অভিমান’ একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।
এই সম্মেলন এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে চলছে এবং বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালীর ওপর — অথচ ন্যাটোর মনোযোগ এখন নিজের অভ্যন্তরীণ বিরোধেই বেশি কেন্দ্রীভূত।
