শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার মুখে ছাই: নাটোরে পরীক্ষার হলে দেদারসে নকল, ধরিয়ে দিয়ে উল্টো বহিষ্কার শিক্ষার্থী
অনলাইন নিউজ ডেক্স
নাটোরের লালপুর উপজেলার নান্দু রায়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন হলের ভেতর প্রকাশ্য ও অবাধে নকল করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে স্থানীয় প্রশাসন, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওটিতে পরীক্ষার হলের চরম অব্যবস্থাপনা এবং পরিদর্শকদের অনুপস্থিতির এক নজিরবিহীন দৃশ্য ফুটে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, পরীক্ষার কক্ষে কোনো শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক উপস্থিত নেই। সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন এই কক্ষে শিক্ষার্থীরা চরম স্বাধীনতায় প্রকাশ্যে নকল মেতে উঠেছে। কেউ বেঞ্চের ওপর আস্ত বই বা কাগজ খুলে উত্তর লিখছে, আবার কেউ কেউ পকেট থেকে স্মার্টফোন বের করে স্ক্রিন দেখে দেখে খাতায় উত্তর টুকলি করছে।
পরীক্ষা হলের এমন বিশৃঙ্খল পরিবেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর টনক নড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষের। তবে মূল অপরাধী বা দায়িত্বহীন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে তথ্য গোপন করাতেই যেন বেশি আগ্রহ প্রশাসনের।
নান্দু রায়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। হলে বসে মোবাইল ফোনে এই ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অপরাধে সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তবে পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল সময়ে কক্ষের ভেতরে পরিদর্শকদের কেন কোনো উপস্থিতি ছিল না এবং শিক্ষকদের এই চরম অবহেলার দায় কার—সে বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করেন এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এই ঘটনাটি দেশজুড়ে চলমান শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবির মুখে বড় একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, নতুন বিএনপি সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছিলেন, “দেশে এখন থেকে পড়ালেখা করতে হবে, নকল আর হবে না।”
মন্ত্রীর এই কড়া হুঁশিয়ারির মাত্র ৫ মাসের মাথায় নাটোরের এই চিত্র স্থানীয় সচেতন মহলকে চরম হতাশ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যিনি ভিডিও করে অনিয়মটি সামনে আনলেন, কেবল সেই শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিয়ে মূল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যারা পরীক্ষা হলের দায়িত্বে অবহেলা করে শিক্ষার্থীদের নকলের সুযোগ করে দিয়েছে, সেই শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
