শেখ হাসিনার আমলে নির্মিত থার্ড টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ বিএনপি সরকারের


শেখ হাসিনার আমলে নির্মিত থার্ড টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ বিএনপি সরকারের
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিএনপি সরকার। টার্মিনালটির নির্মাণকাজের বড় অংশই শেষ হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আংশিক উদ্বোধনও করেছিলেন। তবে নানা কারণে টার্মিনালটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে টার্মিনালটি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। মঙ্গলবার প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে আয়োজিত ‘এভিয়েশন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, তৃতীয় টার্মিনালের কাজ আগের সরকার অসম্পূর্ণ ও খারাপ অবস্থায় রেখে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারও এ বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি করতে পারেনি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর টার্মিনালটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রকল্পটির নির্মাণের ইতিহাস বলছে, তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ এবং এর মূল নির্মাণকাজ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রায় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি নিয়ে গঠিত এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম প্রকল্পটির নির্মাণকাজ করে। প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার জায়গায় নির্মিত টার্মিনালটির আয়তন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। নির্মাণকাজের অগ্রগতিও আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটির ৫১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। ২০২৩ সালের জুনে অগ্রগতি দাঁড়ায় ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশে। ওই বছরের অক্টোবরে কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হওয়ার পর শেখ হাসিনা টার্মিনালটির আংশিক উদ্বোধন করেন। আংশিক উদ্বোধনের সময় জানানো হয়েছিল, বাকি কাজ শেষ করে ২০২৪ সালের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। তবে সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পরীক্ষা ও ক্যালিব্রেশনসহ কিছু কারিগরি কাজ এবং পরবর্তী সময়ে পরিচালনা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের মে মাসে তৎকালীন বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, টার্মিনালের নির্মাণকাজের প্রায় ৯৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। একই বছরের আগস্টে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছিল, কাজের অগ্রগতি ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে বর্তমান সরকারের ১৬ ডিসেম্বর চালুর পরিকল্পনা মূলত দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন ও প্রায় সম্পন্ন হয়ে থাকা এই টার্মিনালের বাকি কাজ শেষ করে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রমে নেওয়ার উদ্যোগ। টার্মিনালটি চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রী ও উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে। বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরের বিদ্যমান দুই টার্মিনালের সক্ষমতা এর তুলনায় অনেক কম। ফলে নতুন টার্মিনালটি চালু হলে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের সক্ষমতার সংকট অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ :

১৫ অগাস্টের কর্মসূচির চেষ্টা করায় বাংলাদেশ জাসদের কার্যালয় উচ্ছেদ করছে সরকার   ১৫ অগাস্টের কর্মসূচির চেষ্টা করায় বাংলাদেশ জাসদের কার্যালয় উচ্ছেদ করছে সরকার ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী: দ্রব্যমূল্য কমাতে সময় লাগবে, ছয় মাসে দৃশ্যমান ফল চাওয়া ঠিক নয়   ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী: দ্রব্যমূল্য কমাতে সময় লাগবে, ছয় মাসে দৃশ্যমান ফল চাওয়া ঠিক নয় রাশিয়া থেকে গম আমদানি ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ, ব্যাখ্যা দিলো রুশ দূতাবাস   রাশিয়া থেকে গম আমদানি ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ, ব্যাখ্যা দিলো রুশ দূতাবাস শেখ হাসিনার আমলে নির্মিত থার্ড টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ বিএনপি সরকারের   শেখ হাসিনার আমলে নির্মিত থার্ড টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ বিএনপি সরকারের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে ওয়ার্নারের সাজা   মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে ওয়ার্নারের সাজা ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে বার্সেলোনায় রদ্রি   ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে বার্সেলোনায় রদ্রি ঢাবিতে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বক্তা আনার নেপথ্যে শিবির, অন্ধকারে হল কর্তৃপক্ষ   ঢাবিতে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বক্তা আনার নেপথ্যে শিবির, অন্ধকারে হল কর্তৃপক্ষ ১,৮৫০ কোটি টাকার এলএনজি কেনাকাটা, কমিশন-বাণিজ্যের ঝুঁকি কতটা   ১,৮৫০ কোটি টাকার এলএনজি কেনাকাটা, কমিশন-বাণিজ্যের ঝুঁকি কতটা