সৌদি-মার্কিন নতুন পারমাণবিক চুক্তি: অস্ত্র প্রতিযোগিতার শঙ্কা?
অনলাইন নিউজ ডেক্স
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বিতর্কিত নতুন পারমাণবিক চুক্তি ঘোষণা করেছে, যার আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর সহায়তায় সৌদি আরব একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি পাবে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এর ফলে সৌদি আরব নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ক্ষমতা অর্জন করতে পারে—যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়—এবং এতে অঞ্চলে একধরনের পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।
উল্লেখ্য, আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই একটি পারমাণবিক চুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পথ তৈরি হয়েছিল। তবে সেই চুক্তি অনেক বেশি সীমাবদ্ধ এবং আমিরাতকে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেয় না। ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চুক্তিকে রিয়াদের জন্য একধরনের কূটনৈতিক জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তবে এতে একটি শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, এই চুক্তি কার্যকর হবে যদি সৌদি আরব আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেয়, অর্থাৎ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে—যা সৌদি আরব এখনই করতে রাজি নয়।
আমিরাত যখন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করছে, তখন সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজছে—যেমন মুসলিমপ্রধান দেশ পাকিস্তান। দুই দেশ ইতিমধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। ইরান-যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সৌদি আরবকে বিমান ও সেনা পাঠিয়ে সমর্থন দিয়েছে, যদিও একই সঙ্গে দেশটি সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করেছে।
সৌদি আরব ও পাকিস্তান এর পাশাপাশি মিসর ও তুরস্কের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করছে। এমনকি তুরস্ক ও কাতারও এই সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ একদিকে এই দেশগুলো একধরনের জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করছে, অন্যদিকে আমিরাত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি থাকছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুদ্ধ ছিল উপসাগরীয় সব রাজতন্ত্রের জন্য একধরনের স্ট্রেস টেস্ট, যা আগে থেকেই বিদ্যমান প্রবণতাগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করেছে—যেমন অর্থনৈতিক আধিপত্য ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই পার্থক্যগুলো এখনো বিদ্যমান এবং সেগুলো হালকা হওয়ার সম্ভাবনা কম, বরং আরও ভারী হয়ে উঠতে পারে।
তবে সম্ভবত তা সরাসরি প্রকাশ্য সংঘাতে গড়াবে না, বরং পৃষ্ঠতলের নিচেই থেকে যাবে।
এর একটি বড় কারণ ভূগোল। আমিরাত তার অবস্থানের কারণে ইরান ও সৌদি আরবের মাঝখানে আটকে আছে—চাইলেও এই ভৌগোলিক বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। সৌদি আরব এমন এক প্রতিবেশী, যাকে উপেক্ষা করার উপায় নেই।
বিশ্লেষকদের ভাষায়, ভূগোলের এই “বন্দিদশা”র কারণেই উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে না গিয়ে একসঙ্গে কাজ করাই একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ। কিন্তু গোটা মধ্যপ্রাচ্য এখনো অস্থির অবস্থায় থাকায়, এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ক্রমেই যেন আরও দূরে সরে যাচ্ছে।
