ঈদের ছুটিতে হারিয়ে যান সুন্দরবনের সৌন্দর্যে


ঈদের ছুটিতে হারিয়ে যান সুন্দরবনের সৌন্দর্যে
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। যার প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি নিশ্বাসেই লুকিয়ে আছে রোমাঞ্চ, রহস্য আর বিস্ময়ের অনন্ত গল্প। অত্যাধুনিক লঞ্চ, জাহাজ কিংবা ক্রুজে চড়ে সুন্দরবন ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্তই হয়ে উঠতে পারে স্মরণীয়। প্রকৃতির একদম কাছাকাছি থেকে এবারের ঈদুল আজহার ছুটি কাটাতে চাইলে সুন্দরবন হতে পারে আপনার সেরা গন্তব্য। সুন্দরবনের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরে আসতে পারেন করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা ও কচিখালী থেকে। বনের গহীনে ঘুরতে ঘুরতে চিত্রা হরিণ কিংবা ভাগ্য ভালো হলে দেখাও মিলতে পারে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। সুন্দরবনের শান্ত ও সবুজ পরিবেশ আপনার ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেবে। সুন্দরবনে ঘুরে দেখার মতো স্পট সুন্দরবনে বিলাসবহুল লঞ্চ বা ক্রুজে রাত কাটাতে পারেন। সাধারণত খুলনা বা মোংলা থেকে তিন দিনের বিভিন্ন প্যাকেজে এসব ভ্রমণ পরিচালনা করা হয়। তবে আপনি যদি ডাঙায় বা স্থলে থাকতে চান, তাহলে মোংলার পর্যটন মোটেল ‘পশুর’ অথবা ঢাংমারীর কোনো ইকো-রিসোর্টে থাকতে পারেন। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণীর বৃহত্তম আবাসস্থল সুন্দরবনজুড়েই পর্যটকদের জন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের অপার সুযোগ রয়েছে। ঘুরে দেখার মতো স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে শরণখোলার টাইগার পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত কটকা, কচিখালীর অভয়ারণ্যকেন্দ্র, করমজল বন্যপ্রাণী ও কুমির প্রজননকেন্দ্র, কলাগাছিয়ার ইকোট্যুরিজম সেন্টার, হিরণ পয়েন্ট খ্যাত নীলকমল অভয়ারণ্য, দুবলারচর, মানিকখালী, আন্দারমানিক ও দোবেকী এলাকা। থাকতে পারেন ইকো কটেজে খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নের ঢাংমারি গ্রামের সুন্দরী ইকো রিসোর্ট, জঙ্গলবাড়িসহ ২০-২৫টি কটেজ, বাগেরহাটের মোংলার দক্ষিণ চিলায় বাদাবন ইকো কটেজ, কয়রার বানিয়াখালীতে নিশিকুড়ি রিসোর্ট, ইরাবতী ইকো রিসোর্টসহ সুন্দরবনের আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু কমিউনিটি ট্যুরিজম কেন্দ্র। কর্পোরেট, কাস্টমাইজড, ফ্যামিলি, স্টুডেন্ট ও বাইকার, সব ধরনের পর্যটকের জন্যই রয়েছে ব্যবস্থা। সুন্দরবনের কোলঘেঁষা ইকো সিস্টেমে তৈরি এসব কটেজে থেকে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে হারিয়ে যাওয়া, বনের ছোট খালে নৌকা ভ্রমণ, কটেজের ফলগাছ থেকে দেশীয় ফল খাওয়া, পুকুরে সাঁতার, বড়শি বা জাল দিয়ে মাছ ধরা, গ্রাম্য হাট ও জেলে পল্লী ঘুরে দেখা, সব মিলিয়ে ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। সন্ধ্যায় বিচ চেয়ারে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ কিংবা রাতে খোলা আকাশের নিচে বারবিকিউ পার্টিও জমে ওঠে। যেভাবে যাবেন সুন্দরবন একদিনেই সুন্দরবন ভ্রমণ করতে চাইলে করমজল পর্যটন কেন্দ্রে যেতে পারেন। ঢাকার মতিঝিল, আরামবাগ, শ্যামলী, কল্যাণপুর ও গাবতলী থেকে গ্রিনলাইন, সোহাগ, হানিফ, ঈগল ও এ কে ট্রাভেলসসহ বিভিন্ন এসি ও নন-এসি বাস খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যায় ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। এ ছাড়া সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস খুলনা, বাগেরহাট ও মোংলার উদ্দেশে চলাচল করে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় আগের তুলনায় কম সময়েই খুলনায় পৌঁছানো সম্ভব। খুলনায় ট্রেনে কিংবা যশোর পর্যন্ত বিমানে গিয়েও সড়কপথে মোংলা যাওয়া যায়। পাশাপাশি নৌপথেও সুন্দরবনে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে সুন্দরবন ভ্রমণ করা যায়। তবে লঞ্চ বা জাহাজে যেতে হলে খুলনা ও মোংলা থেকেই যাত্রা করতে হবে। ট্রলার ও জলযান সুবিধা পর্যটকদের সুন্দরবন ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য বাগেরহাটের মোংলা, খুলনার চালনা ও সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় রয়েছে অসংখ্য ট্রলার। এক দিনের সফরে মোংলা থেকে পশুর নদ হয়ে করমজল ও হাড়বাড়িয়া, খুলনা থেকে রূপসা-শিবসা নদী হয়ে কালাবাগী ও শেখেরটেক এবং সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ থেকে কলাকাছিয়া ও দোবেকী ঘুরে দেখা যায়। ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে গেলে সাধারণত সব ধরনের ফি প্যাকেজের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে নিজ উদ্যোগে গেলে প্রতিটি জায়গার প্রবেশ ফি আলাদাভাবে দিতে হয়। বর্তমানে খুলনা থেকে সুন্দরবনে ভ্রমণকারীদের জন্য প্রায় ৬০টি জলযান রয়েছে। একেকটি জলযানে ৬ জন থেকে শুরু করে ৭৫ জন পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারেন। পর্যটক বরণে প্রস্তুত সুন্দরবন অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা সুন্দরবন উপভোগ করতে পর্যটকদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ট্যুর অপারেটরের আকর্ষণীয় প্যাকেজ। সাধারণত তিন দিন দুই রাতের প্যাকেজ বেশি জনপ্রিয়। এতে ভ্রমণের অনুমতিপত্র, খাওয়াদাওয়া, থাকা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে। হলিডেজ শিপিং লাইন্সের স্বত্বাধিকারী আবুল ফয়সাল মো. সায়েম বাংলানিউজকে বলেন, এই ঈদে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে পারেন প্রকৃতির সবচেয়ে রহস্যময় সৌন্দর্যের মাঝে। আমাদের রয়েছে লাক্সারি ক্রুজ এমভি দ্য ওয়েভ-১ ও এমভি দ্য ওয়েভ-২। এছাড়া লাক্সারি কেবিন, সুস্বাদু খাবার, লাইভ গাইড, নিরাপত্তা, সুইমিংপুল, অ্যাডভেঞ্চার ও নেচার এক্সপ্লোরেশনের সুবিধা রয়েছে। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণে বন বিভাগ প্রস্তুত। আগতদের নিরাপত্তায় বনকর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, সুন্দরবনে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় সমন্বিতভাবে কাজ করছে র‌্যাব ও কোস্ট গার্ড। বনকে দস্যুমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।