ভোলায় ৬৯-এর মহানায়ক তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঠেকাতে নেমেছিল বিএনপি ও জামায়াত-শিবির
অনলাইন নিউজ ডেক্স
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম বাঁক-বদল ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের শেষ বিদায়েও ছড়াল চরম রাজনৈতিক উত্তাপ।
আজ মঙ্গলবার তার নিজ জেলা ভোলায় জানাজার আগে মাঠ দখল করে নজিরবিহীন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠন ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা। তাদের সাথে ছিল স্থানীয় জামায়াত-শিবির ও এনসিপির কর্মীরাও।
ফলে জানাজাস্থল ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ ২রা জুন, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন। তারা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রবীণ এই নেতার জানাজা সেখানে না পড়ানোর জোরালো দাবি জানান।
এ সময় মাঠজুড়ে ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা এই ভোলায় হবে না’ এবং ‘একটা একটা লীগ ধর-ধইরা ধইরা জবাই কর’ সহ অত্যন্ত উগ্র ও চাঞ্চল্যকর স্লোগান দিতে থাকেন নেতাকর্মীরা।
এই বিক্ষোভের ফলে পুরো এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ধৈর্য্য ধরে তাদের প্রতিহত করেন। তাদের শক্ত উপস্থিতির কারণে বিএনপি-জামায়াত, শিবির-এনসিপির সন্ত্রাসীরা বাড়াবাড়ি করতে পারেননি।
এর আগে, দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত ও লিভারের জটিলতায় ভুগে গত বছরের ২৪শে সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। অবশেষে গতকাল সোমবার (১লা জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
গতকালই বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে তার আজন্ম চেনা রাজনৈতিক চত্বর ও নিজ জেলা ভোলায় নিয়ে আসা হয়।
বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপির সন্ত্রাসীদের হুমকি-ধমকির মাঝেই পরবর্তীতে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভোলা সরকারি হাই স্কুল মাঠে হাজার হাজার মুসল্লীর উপস্থিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে এই মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠককে তার নিজ এলাকা দক্ষিণ গঙ্গাপুরের কোরালিয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অশ্রুসিক্ত নয়নে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সমাহিত করা হয় তাকে।
