১৫ অগাস্টের কর্মসূচির চেষ্টা করায় বাংলাদেশ জাসদের কার্যালয় উচ্ছেদ করছে সরকার
অনলাইন নিউজ ডেক্স
১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করায় সরকার বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। তাদের দাবি, কর্মসূচি পণ্ড করতে পুলিশ কার্যালয়ে অবস্থান নেওয়ার তিন দিনের মাথায় এবার রাজধানীর তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদ ভবনে থাকা দলটির কার্যালয় ছাড়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়ার কাছে সোমবার পাঠানো নোটিসে সাত মাসের বকেয়া ভাড়া বাবদ দেড় লাখ টাকা এবং সেবা বিল বাবদ ১ হাজার ৫৩০ টাকা পরিশোধ করে আগামী দুই মাসের মধ্যে ৫১৪ ও ৫১৬ নম্বর কক্ষ খালি করতে বলা হয়েছে। প্রায় আট বছর ধরে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের পঞ্চম তলার ওই দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে দলটি।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ১৫ আগস্টের কর্মসূচি পণ্ড করেই সরকার নিবৃত্ত হয়নি, এখন শিশু কল্যাণ পরিষদকে চাপ দিয়ে দলটির কার্যালয় উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “১৫ আগস্ট বাংলাদেশ জাসদের কর্মসূচি পণ্ড করেই সরকার নিবৃত্ত হয়নি। সরকার এখন শিশু কল্যাণ পরিষদকে চাপ দিয়ে বাংলাদেশ জাসদ কার্যালয় উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে।”
১৫ আগস্টের কর্মসূচি পণ্ডের অভিযোগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভাসহ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ জাসদ। দলটির অভিযোগ, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওই দিন পুলিশ তাদের কার্যালয়ে অবস্থান নেয়।
এর ফলে নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করতে পারেনি দলটি। এর তিন দিনের মাথায় কার্যালয় ছাড়ার নোটিস পাওয়ায় দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ জাসদ।
দলটির দাবি, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের কারণে সরকার এখন তাদের দীর্ঘদিনের কার্যালয়টিও সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
‘বকেয়া ভাড়া ও নিরাপদ পরিবেশের কারণে নোটিস’
তবে বাংলাদেশ জাসদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুলের সই করা নোটিসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাসদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং এতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সংকট তৈরি হচ্ছে।
নোটিসে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাসদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে মৌখিকভাবে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে বকেয়া ভাড়া ও সেবা বিল পরিশোধ করে দুই মাসের মধ্যে ভাড়াকৃত স্থান ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ মনিরুল বলেন, বাংলাদেশ জাসদ নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করছে না। শিশু কল্যাণ পরিষদ প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য পরিচালিত হওয়ায় ভাড়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়।
তিনি বলেন, “প্রথমত তারা নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করছে না। আমাদের প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য পরিচালিত। তাদের চিকিৎসাও হয় এখানে। এসব কিছু ভাড়ার টাকা দিয়ে যোগান দিতে হয়।”
শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান মনিরুল। তার ভাষ্য, ডিএমপির পক্ষ থেকে তাদের বলা হয়েছে, ভবনটিতে শিশুদের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে না। একই ভবনে থাকা মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়কেও এ বিষয়ে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের বক্তব্য
নোটিসে ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের মৌখিক পরামর্শের কথা উল্লেখ থাকলেও পুলিশের পক্ষ থেকে শিশু কল্যাণ পরিষদকে কার্যালয় উচ্ছেদের বিষয়ে কোনো নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বাড়িওয়ালার চিঠি দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়িওয়ালাকে কিছু বলা হয়নি। এটা সত্য নয়।”
বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রায় আট বছর ধরে শিশু কল্যাণ পরিষদের পঞ্চম তলার ৫১৪ ও ৫১৬ নম্বর কক্ষ ভাড়া নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিচালনা করে আসছে বাংলাদেশ জাসদ। ১৫ আগস্টের কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের অবস্থান এবং এরপর কার্যালয় ছাড়ার নোটিসকে একই ঘটনার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে দলটি। তবে পরিষদ ও পুলিশের বক্তব্যে নোটিস দেওয়ার কারণ নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে।
