আত্রাইয়ে বাল্যবিয়ের আসরে ইউএনওর অভিযান
নাসির উদ্দিন, উপজেলা সংবাদদাতা, আত্রাই, নওগাঁ
নওগাঁর আত্রাইয়ে বাল্যবিয়ের আয়োজন বন্ধ করতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়িতে হামলা করে আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় গ্রামপুলিশ সদস্য সাহাদাত হোসেন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিশা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন, বর আল আমিন ও কনেকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমসপাড়া সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক বর আল আমিন ওই গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সমসপাড়া সরদারপাড়া গ্রামে ১২ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ের আয়োজন করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানকালে বিয়ের আসর থেকে বর আল আমিনকে আটক করা হয়।
পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় বরপক্ষের কয়েকজন লোক গাড়িটি আটকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তারা ইউএনও ও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় ইউএনওকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে গ্রামপুলিশ সদস্য সাহাদাত হোসেনকে মারধর করা হয়। এতে তিনি আহত হন।
গ্রামপুলিশ সাহাদাত হোসেন বলেন, বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। ইউএনও স্যার বরকে আটক করে গাড়িতে তোলার পর বরপক্ষের লোকজন গাড়ি আটকে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ইউএনও স্যারের ওপর হামলার চেষ্টা করলে আমি সামনে এগিয়ে যাই। তখন আমাকে মারধরসহ স্যারের সঙ্গে থাকা অন্যদের ওপরও হামলা করা হয়।
খবর পেয়ে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে মাহাতাব হোসেন, বর আল আমিন ও কনেকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়িতে হামলার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে মাহাতাব হোসেন, বর আল আমিন ও কনেকে আটক করে থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান ২৯/০৮/২০২৬ তারিখ দুপুর ২:৩০ ঘটিকায় বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায় ১২ বছর বয়সী ৭ম শ্রেণী পড়ুয়া এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ হওয়ার তথ্য পাওয়ার পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে কনের বাল্যবিবাহ সংঘটিত হওয়ার সত্যতা পাওয়া যায়। বর কনের বাবা মাকে বিয়ে বাড়িতে আসতে বলা হলে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে বর ও কনের পক্ষ থেকে কেউ না আসায় বর আল আমিন ও কনে কে এরেস্ট করা হয়। গাড়ি আসামীদিগকে নিয়ে বিয়ে বাড়ি ত্যাগ করতে উদ্যত হলে উক্ত ছেলের ফ্যামিলির লোক সহ ২৫-৩০ জন গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করে এবং আসামী ছিনতাই করার চেষ্টা করে। এছাড়াও সরকারি কাজে বাধা প্রদানের জন্য পুলিশ এবং স্টাফ এর উপর আক্রমণ করার চেষ্টা করে। পরে অফিসার ইনচার্জ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে অফিসার ইনচার্জ সহ অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এসে বর কনে সহ প্রথমে ৩ জন কে এরেস্ট করা হয়। এবং পরবর্তীতে আরো ৪ জন কে গেফতার করা হয়। এ সময় বাল্যবিবাহ সম্পাদনের অপরাধে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বরের বাবা মো: ইয়ানুস শেখ কে ২০,০০০/- টাকা, কনের বাবা জুয়েল কে ২০,০০০/- টাকা এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদান, আসামী ছিনতাই এর চেষ্টা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য, পেশকার ও গ্রাম পুলিশের ওপর আক্রমণের চেষ্টার অপরাধে দন্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী ১। জনাব মান্নান শেখ, পিতা : করম আলী শেখ, সমাসপাড়া কে ০১( এক) বছর, ২। মো: রাব্বি শেখ, পিতা: ইয়ানুস শেখ, সমাসপাড়া কে ০৬( ছয়) মাস, ৩। মো: মাহাতাব আলী, পিতা: মৃত আব্দুল আজিজ, সমাসপাড়া কে ০১( এক) মাস বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। এছাড়াও বর এবং কনের পিতাকে বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত আইন মেনে চলার নিমিত্ত মুচলেকা নেওয়া হয়।
