শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে বৈবাহিক অবস্থা লেখার বিষয়ে যে রায় এলো


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে বৈবাহিক অবস্থা লেখার বিষয়ে যে রায় এলো
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বৈবাহিক অবস্থা লিখতে বাধ্য করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত। ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘মেয়েটি এখন কী করবে?’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী ফারিহা ফেরদৌস ও নাহিদ সুলতানা জেনি। ওই পত্রিকার প্রতিবেদন অনুসারে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৬ জুন দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ধর্ষণের শিকার হন মেয়েটি। ধর্ষকের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দেওয়ার জন্য গ্রামের লোকজন চাপ দিতে থাকেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে এ নিয়ে সালিশও হয়; কিন্তু সেখানে অভিযুক্ত যুবক সবকিছু অস্বীকার করেন। সালিশ ভেঙে যায়। প্রতিপক্ষের হুমকির মুখে মেয়ের পরিবার মামলা করতে পারে না। একপর্যায়ে সন্তানসম্ভবা হলে মেয়েটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। তখন ওসিসি থেকেই ধর্ষণ মামলা করা হয়। মামলার পর পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করে। এরপর ওই যুবক, মেয়ে এবং তার সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় প্রমাণ হয় ওই যুবকই শিশুটির বাবা। আদালতে মামলার বিচার শুরু হয়। আদালত ওই মেয়েটিকে ‘মহিলা সহায়তা কর্মসূচির’ রাজশাহী বিভাগীয় আবাসন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেখানে থাকা অবস্থায় মেয়েটির এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা চলাকালে ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেয়েটি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। আবাসন কেন্দ্রে থাকতেই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৪.১৯ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন মেয়েটি। পরে সেখানে থেকেই এইচএসসি পরীক্ষায়ও অংশ নেন তিনি। পরবর্তীতে আইনজীবী আশুরা খাতুন এবং জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী দিল সেতারার সহযোগিতায় মেয়েটিকে বাড়িতে দিয়ে আসেন। এরই মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এবার জিপিএ-৩.১৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। এদিকে ২০১৭ সালের ৩০ মে আদালতের রায়ে ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। আদালতের রায়ে সন্তানের দায়ভার বাবাকে নিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাবার ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সন্তান হওয়ার কারণে বিবাহিত না হলেও তাকে ফেলা হয়েছে বিবাহিত নারীর কাতারে। তিনি নার্সিং কলেজের ফরমই পূরণ করতে পারবেন না। বিয়ে না করলেও তার সন্তান রয়েছে। তাকে এখন বিবাহিত নারী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। অথবা ফরমে তাকে স্বামী পরিত্যক্তা লিখতে হবে। মেয়েটি কোনো দলেই পড়েন না। এ অবস্থায় রিটের পর হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর রুল জারি করেন। রুলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বৈবাহিক অবস্থা জানতে চাওয়া কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না এবং এ বিষয়ে একটি অর্থপূর্ণ নীতিমালা কেন করা হবে না- তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়াও মেয়েটিকে অবিলম্বে নার্সিং কলেজে ভর্তি করতে নির্দেশ দেন আদালত । ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) রায় দেন হাইকোর্ট।

সর্বশেষ :

মাদক নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো তৎপর হতে   মাদক নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো তৎপর হতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিবাহ ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।   চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিবাহ ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । চাঁপাইনবাবগঞ্জে হেরোইন ও ইয়াবাসহ আটক ১   চাঁপাইনবাবগঞ্জে হেরোইন ও ইয়াবাসহ আটক ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে মানববন্ধন ও ডিসির কাছে স্মারকলিপি   চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে মানববন্ধন ও ডিসির কাছে স্মারকলিপি বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেলসহ ০২ জন আসামী আটক।   বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেলসহ ০২ জন আসামী আটক। কাশিয়ানীতে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ শীর্ষক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত   কাশিয়ানীতে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ শীর্ষক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত বনের নৈসর্গিক পরিবেশে বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতির অনন্য মিলনমেলা: নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো চতুর্থ রকল্যান্ড রিট্রিট ও বইমেলা ২০২৬   বনের নৈসর্গিক পরিবেশে বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতির অনন্য মিলনমেলা: নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো চতুর্থ রকল্যান্ড রিট্রিট ও বইমেলা ২০২৬ হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস!   হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস!