২১ বছরের সম্পর্কের ইতি: লেস্টার ছেড়ে শেফিল্ড ইউনাইটেডে হামজা
অনলাইন নিউজ ডেক্স
সুদীর্ঘ ২১ বছরের সম্পর্কের পাট চুকিয়ে লেস্টার সিটি ছাড়লেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। এক বছরের চুক্তিতে তিনি স্থায়ীভাবে যোগ দিয়েছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডে। ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলারের দলবদলের ফি অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষ।
হামজার জন্য ব্রামাল লেনে এটি ঘরের চালে ফেরার মতোই। ২০২৫ সালে ধারে খেলার সময়ই ব্লেডস সমর্থকদের প্রিয়মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেবার সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯টি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন এবং শেফিল্ডকে চ্যাম্পিয়নশিপ প্লে-অফ ফাইনালে তুলতে রেখেছিলেন মুখ্য ভূমিকা।
মাত্র সাত বছর বয়সে লেস্টারের একাডেমি দিয়ে শুরু হয়েছিল হামজার ফুটবল পথচলা। বয়সভিত্তিক ধাপগুলো পেরিয়ে এরপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় সার্ভিস দিয়েছেন ক্লাবটির মূল দলকে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন বার্তায় ক্লাবের এই সন্তানকে বিদায় জানিয়েছে লেস্টার সিটি। ক্লাবটি লেখে, ‘হামজা সাত বছর বয়সে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। পরবর্তীতে মূল দলের হয়ে খেলে এফএ কাপ ও চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতেছে সে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা এই সম্পর্কের জন্য তোমাকে ধন্যবাদ হামজা, ভবিষ্যতের জন্য অনেক শুভকামনা।’
লেস্টারের হয়ে হামজার মূল দলে অভিষেক হয়েছিল লিগ কাপে, লিভারপুলের বিপক্ষে। তার দুই মাস পর টটেনহ্যাম হটস্পারের বিরুদ্ধে হয় প্রিমিয়ার লিগ অভিষেক। ফক্সদের হয়ে সব মিলিয়ে ১৬৫টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। ২০২১ সালে লেস্টারের ঐতিহাসিক এফএ কাপ জয় এবং ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
শেফিল্ডের কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডারের সঙ্গে হামজার রসায়নটা বেশ পুরনো। এর আগে ওয়াটফোর্ডে ধারে খেলার সময়ও ওয়াইল্ডারের অধীনে খেলেছিলেন তিনি। এই অলরাউন্ডার মিডফিল্ডারকে দলে পেয়ে উচ্ছ্বাস গোপন করেননি শেফিল্ড বস।
ওয়াইল্ডার জানান, রাইট-ব্যাক ও মিডফিল্ড—দুই পজিশনেই সমানে কার্যকর হামজার উপস্থিতি দলে প্রতিযোগিতা আরও বাড়াবে। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড় ও মানুষ হিসেবে হামজাকে আমি কতটা মূল্যায়ন করি, তা সবারই জানা। শেফিল্ড সমর্থকরা প্রথম স্পেল থেকেই জানে সে কেমন দুর্দান্ত ফুটবলার। তার মানসিকতা ও জেদ আমাদের ক্লাবের লক্ষ্যের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। গত মৌসুমে আমাদের হয়ে খেলা শেষ ১০টি ম্যাচে একপ্রকার সেরা ফুটবলারই ছিল সে, যার মধ্যে প্লে-অফ সেমিফাইনাল ও ফাইনালও অন্তর্ভুক্ত।’
ওয়াইল্ডার আরও যোগ করেন, ‘হামজা একজন ট্রফি জয়ী খেলোয়াড়, যিনি ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছেন। সাফল্যের পথটা কীভাবে সুগম করতে হয়, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন। ড্রেসিংরুমেও তিনি অনুপ্রেরণা যোগাবেন।’
পুরো ফুটবল জীবন যে ক্লাবে কাটল, সেই লেস্টার ছাড়াটা যে সহজ ছিল না, তা মেনে নিয়েছেন হামজাও। নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের রোমাঞ্চ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। আগেরবার যখন এখানে খেলেছিলাম, সময়টা দারুণ কেটেছিল। তাই চুক্তিটা সম্পন্ন হওয়ায় আমি সত্যিই আনন্দিত।’
‘এটি আমার জন্য অনেক বড় একটি পরিবর্তন। দীর্ঘ ২১ বছর ধরে লেস্টারে ছিলাম, তাই নিজের ও পরিবারের জন্য পরিবর্তনটা অনেক বড়। তবে আমি নতুন এই চ্যালেঞ্জের জন্য মুখিয়ে আছি। আশা করি, আমরা এখানে দারুণ একটি মৌসুম কাটাতে পারব। কোচের সঙ্গে ওয়াটফোর্ডে অল্প সময়ের জন্য কাজ করেছি, এরপর এখানেও তার অধীনে খেলেছি। আমাদের যোগাযোগটা সব সময়ই ছিল। তার নির্দেশনায় খেলতে আমি সত্যিই ভালোবাসি।’
