তারহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিতে পারবে ৩ অপারেটর


দেশের তিন মোবাইল অপারেটরের অনুকূলে একীভূত লাইসেন্স হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এখন থেকে একই লাইসেন্সের আওতায় ফাইভজিসহ তারহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিতে পারবে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি ও টেলিটক। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও এ বিটিআরসি ভবনে এই লাইসেন্স হস্তান্তর করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ‘এই লাইসেন্সের ফলে ফাইভ জি বা এরপর যত আধুনিক প্রযুক্তি আসুক না কেন নতুন কোনো লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে না।’ বিটিআরসি বলছে, লাইসেন্স প্রাপ্ত তিন মোবাইল কোম্পানি একই লাইসেন্সের আওতায় ফাইভ জি সহ নতুন সব প্রযুক্তিগত সুবিধা দিতে পারবে। ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকসেসের সুবিধাও থাকছে এ লাইসেন্সের আওতায়। ফলে মোবাইল কোম্পানিগুলো উচ্চগতির (ব্রডব্যান্ড) তারহীন ইন্টারনেট সেবা দিতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ ১৫ বছর। আগের টুজি, থ্রিজি, ও ফোরজি প্রযুক্তি এবং তরঙ্গ ফি’র সব বিষয়কে এক লাইসেন্সের আওতায় আনা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জুয়েল, গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান, রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদুল আলম, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.কে.এম হাবিবুর রহমান প্রমুখ। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো টুজি লাইসেন্স নামে বাণিজ্যিকভিত্তিতে সেলুলার মোবাইল সেবার লাইসেন্স দেয় সরকার, যা ২০১১ সালে ১৫ বছরের জন্য ২০২৬ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা হয়। ২০১৩ সালে চার মোবাইল অপারেটরকে ২০২৮ সাল মেয়াদ পর্যন্ত থ্রিজি লাইসেন্স প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত চার অপারেটরে অনুকূলে ফোরজি লাইসেন্স দেয় বিটিআরসি। বর্তমানে এই লাইসেন্সগুলোর আওতায় দেশে মোবাইল ফোন সেবা দিচ্ছে চারটি কোম্পানি। বিশ্বের বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক ও প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফাইভজি প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ব্রডব্যান্ড, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) সহ আধুনিক নানা সেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশেও ফাইভজি সেবার জন্য ইতোমধ্যে ২.৩ গিগাহার্জ, ২.৬ গিগাহার্জ ও ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড ৩টি নির্বাচন করেছে। ২০২২ সালের ৩১ মার্চ ২.৩ গিগাহার্জ ব্যান্ড হতে ৭০ মেগাহার্জ তরঙ্গ এবং ২.৬ গিগাহার্জ ব্যান্ড হতে ১২০ মেগাহার্জ তরঙ্গ ৪টি মোবাইল অপারেটরকে বরাদ্দ দিয়েছে যা বর্তমানে ফোরজি সেবা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।