প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

আবারও বোতলজাত সয়াবিনের সংকট, ৫ লিটারে বাড়তি গুণতে হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা


আবারও বোতলজাত সয়াবিনের সংকট, ৫ লিটারে বাড়তি গুণতে হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা
বাজারে আবারও কমেছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ। বিশেষ করে এক, দুই ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত তেল অনেক দোকানেই আগের তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে। সংকটের সুযোগে নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়ে বাড়তি দামও নেওয়া হচ্ছে। ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে গায়ে মুদ্রিত নির্ধারিত দামের চেয়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে। এক ও দুই লিটারের বোতল থেকেও লিটারপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল কাঁচাবাজার, ধানমন্ডি, আদাবর বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা মুদিদোকানগুলোয় আগের তুলনায় কম পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন তেল রয়েছে। কয়েকজন বিক্রেতা বলেন, কোম্পানিগুলো বাজারে চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে। সরবরাহকারীদের (ডিলার) কেউ কেউ তাদের জানিয়েছেন, তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এ কারণে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ধানমন্ডির শংকর এলাকার এক মুদিদোকানি আফজাল হোসেন বলেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমার পেছনে আরেকটি কারণ রয়েছে। এক ও দুই লিটারের বোতল বিক্রি করে খুচরা বিক্রেতাদের লাভ কম। ফলে অনেক ডিলার ও দোকানি এসব বোতল কম রাখছেন। ৫ লিটারের বোতলে তুলনামূলক বেশি লাভ থাকায় সেটি বিক্রিতে তাদের আগ্রহ বেশি। দাম বাড়ার পর আবার সরবরাহ কম চলতি মাসের শুরুতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়। ২রা সেপ্টেম্বর এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর আগে দাম ছিল ১৯৯ টাকা। একই সময়ে ৫ লিটারের বোতলের দাম ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর আগে ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজারে বাড়তি দামের কারণ দেখিয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিলেন। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পাঁচ টাকা দাম বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। মূল্যবৃদ্ধির পর কিছুদিন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। তবে এখন আবার সরবরাহ কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ। বিশ্ববাজারে দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে উল্টো চিত্র আন্তর্জাতিক বাজারে গত কয়েক মাসে পাম ও সয়াবিন তেলের গড় দাম কমলেও দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে সরবরাহের ঘাটতির কথা বলে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডেটা বা ‘পিংক শিট’-এর আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, জুন-আগস্ট সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের গড় দাম আগের তিন মাসের তুলনায় কমেছে। গত ২রা সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ১১৭ ডলার। জুনে ছিল ১ হাজার ১০৪ ডলার এবং জুলাইয়ে ১ হাজার ১০১ ডলার। জুন-আগস্ট তিন মাসে গড় দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ১০৭ দশমিক ৩৩ ডলার। এর আগের এপ্রিল-জুন সময়ে গড় দাম ছিল ১ হাজার ১২৮ দশমিক ৬৭ ডলার। অর্থাৎ তিন মাসের গড় তুলনায় পাম তেলের দাম কমেছে ২১ দশমিক ৩৪ ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ। সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাজারে একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। এপ্রিল, মে ও জুনে সয়াবিন তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৬৪৩, ১ হাজার ৭৮১ ও ১ হাজার ৭৪০ ডলার। এই তিন মাসের গড় ছিল ১ হাজার ৭২১ দশমিক ৩৩ ডলার। অন্যদিকে জুন, জুলাই ও আগস্টে দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৭৪০, ১ হাজার ৬৫৮ ও ১ হাজার ৬৩৮ ডলার। এ তিন মাসের গড় দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৬৭ ডলার। অর্থাৎ আগের তিন মাসের তুলনায় সয়াবিন তেলের গড় দাম কমেছে ৪২ দশমিক ৬৭ ডলার বা প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার সঙ্গে দেশের পাইকারি বাজারের দামের মিল নেই। বর্তমানে খাতুনগঞ্জে সয়াবিন তেল প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাম তেলের দাম প্রায় ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং সুপার পাম তেলের দাম প্রায় ৬ হাজার ৮০০ টাকা। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেড় মাস আগেও খাতুনগঞ্জে সয়াবিন তেলের দাম ছিল মণপ্রতি প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ এই সময়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা বা ৪ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে পাম তেলের দামও মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৮ থেকে ২১০ টাকা, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি কমেছে কি না বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর, ব্যাংকিং ব্যয়, পরিশোধন ও প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন ব্যয় স্থানীয় বাজারদরে প্রভাব ফেলে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও আগের বেশি দামে আমদানি করা তেল বাজারে থাকলে স্থানীয় বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে দাম কমার প্রভাব নাও পড়তে পারে। আবার আমদানির পরিমাণ কমে গেলে বা সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও দাম বাড়তে পারে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে মোট ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল ৫০ হাজার ৮৯৬ টন, যা মোট আমদানির প্রায় ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ। সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে ১৫ হাজার ৬১ টন, যা মোট আমদানির প্রায় ২২ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ওই সময়ে সয়াবিন তেলের তুলনায় পাম তেল আমদানি হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৪ গুণ বেশি। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে প্রায় ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং সয়াবিন তেল প্রায় ২৩ শতাংশ। কাস্টমস মূলত আমদানিসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে। বাজারদর নির্ভর করে সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নানা বিষয়ের ওপর। নজরদারির তাগিদ চলতি বছর এর আগে দুই দফায় সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। গত ২৯শে এপ্রিল এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ৯৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০ টাকা করা হয়। এরপর ২রা সেপ্টেম্বর এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য আরও পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আলা উদ্দীন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের পাইকারি বাজারের দামের তুলনা করতে হলে শুধু টনপ্রতি আন্তর্জাতিক মূল্য বিবেচনা করলে হবে না। আমদানি থেকে খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত পুরো ব্যয় কাঠামো বিবেচনায় নিতে হবে। সরবরাহ ও আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনও বর্তমান বাজারদরে প্রভাব ফেলছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার পরও দেশের বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি নজরদারিতে রাখার প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভোক্তা অধিকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সামনে রমজান। এখন থেকেই দাম বৃদ্ধির অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে কি না, সেটি নজরদারিতে রাখা দরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল ভোক্তারা কতটা পাচ্ছেন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধির কারণও নজরদারির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

সর্বশেষ :

ফেনীতে ‘ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা মিছিল করার কথা ভাবছেন’ অভিযোগে আটক ৬ নেতাকর্মী   ফেনীতে ‘ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা মিছিল করার কথা ভাবছেন’ অভিযোগে আটক ৬ নেতাকর্মী ক্যাম্পাস কোনো ছাত্র সংগঠনের হতে দেওয়া হবে না, জানালেন গুপ্ত শিবির নেতা ফরহাদ   ক্যাম্পাস কোনো ছাত্র সংগঠনের হতে দেওয়া হবে না, জানালেন গুপ্ত শিবির নেতা ফরহাদ আসিয়ান কাপের শুরুতেই মালয়েশিয়ার কাছে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ   আসিয়ান কাপের শুরুতেই মালয়েশিয়ার কাছে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগ নেতার পারিবারিক ঐতিহ্যবাহী বাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দিল বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির সন্ত্রাসীরা   ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগ নেতার পারিবারিক ঐতিহ্যবাহী বাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দিল বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির সন্ত্রাসীরা সরকারি শৌচাগার ভেঙে বিএনপি কার্যালয় স্থাপন, লাগানো হয়েছে এমপির ছবিও   সরকারি শৌচাগার ভেঙে বিএনপি কার্যালয় স্থাপন, লাগানো হয়েছে এমপির ছবিও ৯ বছর আগে ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার   ৯ বছর আগে ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার রায়ানের শেষ মুহূর্তের গোলে বিব্রতকর হার এড়ালো ব্রাজিল   রায়ানের শেষ মুহূর্তের গোলে বিব্রতকর হার এড়ালো ব্রাজিল আবারও বোতলজাত সয়াবিনের সংকট, ৫ লিটারে বাড়তি গুণতে হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা   আবারও বোতলজাত সয়াবিনের সংকট, ৫ লিটারে বাড়তি গুণতে হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা