সরকারি শৌচাগার ভেঙে বিএনপি কার্যালয় স্থাপন, লাগানো হয়েছে এমপির ছবিও
অনলাইন নিউজ ডেক্স
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবাগ্যা গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দীঘি বাজারে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি শৌচাগার ভেঙে সেখানে বিএনপির দলীয় কার্যালয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাজারের সেতুর পাশে বটগাছের সামনে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই কক্ষের শৌচাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বাজারে আসা ক্রেতা, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সেটি ব্যবহার করতেন।
সম্প্রতি শৌচাগারটি ভেঙে ফেলে সেখানে দুটি ঘর বানানো হয়। পরে সেগুলোকে বিএনপির দলীয় কার্যালয় হিসেবে পরিচয় করিয়ে একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই জায়গায় দুটি ঘর তালাবদ্ধ রয়েছে। নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের ছবি সংবলিত সাইনবোর্ডটি ঘর দুটির মাঝখানে বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থাপনাটিকে দলীয় কার্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, শৌচাগারটি না থাকায় বাজারে আসা মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি স্থাপনা ভেঙে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। খাসজমিতে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্মিত স্থাপনা ভেঙে সেখানে রাজনৈতিক কার্যালয় গড়ে তোলার ঘটনাকে তারা নিন্দনীয় ও দুঃখজনক বলে মনে করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগে বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিটির সহসভাপতি মো. কামাল এবং বিএনপি নেতা মো. রাজিবের নাম এসেছে।
বিএনপি নেতা রাজিব বলেন, “টয়লেট কামাল ভেঙেছে, আমি সেই জায়গায় ঘর দিয়েছি। তবে বিএনপির সাইনবোর্ড কে লাগিয়েছে, তা আমি জানি না। এখানে এখনো কোনো দলীয় কার্যক্রম হয়নি।”
জায়গাটির দখল নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
জানা গেছে, ব্যবসায়ী নেছার দীর্ঘদিন ধরে সেখানে শাকসবজি চাষ করে আসছেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সরকারি খাসজমিটি বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা এ ঘটনায় অসন্তোষ জানিয়েছেন।
তাদের বক্তব্য, দলের নাম ব্যবহার করে সরকারি জায়গা দখল করা বা জনসাধারণের সুবিধা কেড়ে নেওয়া হলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। সরকারি শৌচাগার ভাঙার ঘটনা তদন্ত, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, জনসাধারণের সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
চরজুবিলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল বলেন, “খোঁজ নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
