প্রবাসী জামায়াত কর্মী ফুফার স্ত্রীর বিছানায় পুত্রের হাতে আটক শিবির নেতাকে হাঁসুয়ার কোপ, বাড়িতে আগুন
অনলাইন নিউজ ডেক্স
রাজশাহীর বাঘায় এক প্রবাসী জামায়াতে ইসলামীর কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত গুপ্ত সম্পর্কের জেরে হাফিজুর রহমান নামে এক শিবির নেতাকে বেদম পিটুনির পর তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
হাফিজুর রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রবাসীর স্ত্রী রেকসোনা আক্তার সম্পর্কে তার ফুফু হন।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুপ্ত সংগঠন শিবিরের নেতা হাফিজুর এবং ওই নারীর বাড়ি পাশাপাশি। ওই নারীর স্বামী কালু মাতব্বর ও বড় ছেলে উসমান মালয়েশিয়া প্রবাসী। তাদের পুরো পরিবার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে জড়িত। ওই নারী ছোট ছেলে আবু বক্করকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন।
অন্যদিকে বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তান সঙ্গে নিয়ে থাকেন পাশের বাড়ির শিবির নেতা হাফিজুর। এক যুগেরও বেশি সময় আগে উপজেলার আতারপাড়া চর অঞ্চলে বসবাস করতেন। পরে বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কিশোরপুর শেখপাড়া বসতি স্থাপন করে বসবাস করছেন। রেকসোনা সম্পর্কে হাফিজের ফুফু হন।
ঘটনার দিন শুক্রবার রাতে আবু বক্করের অনুপস্থিতির সুযোগে ফুফু রেকসোনার বাড়িতে যান হাফিজুুর। রাত ১১টার দিকে মায়ের সঙ্গে হাফিজুরের অনৈতিক কর্মকাণ্ড নজরে আসে ছেলে আবু বক্করের। এ সময় তিনি হাফিজুরের উপর হামলা ও হাঁসুয়া দিয়ে আঘাত করেন।
এর জেরে শনিবার বেলা ১১টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ লোক শিবির নেতা হাফিজুরের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিবির নেতা হাফিজুর ও ওই নারীর বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। তখনও হাফিজুরের বাড়ির দুটি কক্ষ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ওই প্রবাসী জামায়াত কর্মীর ছেলে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে গুপ্ত সংগঠন শিবির নেতা হাফিজুরকে কুপিয়ে জখম করেছেন। কয়েকজনের দাবি, জানালা ভেঙে পালানোর সময় হাফিজুর আহত হন।
স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নবিউল ইসলাম বলেন, রাজশাহী কলেজে পড়ার সময় হাফিজুর রহমান ছাত্রশিবিরের একটি দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। তিনি ইবনে সিনা হাসপাতালে চাকরি করেন।
নবিউল বলেন, আহত হাফিজুরকে প্রথমে রাজশাহী ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
বাঘা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বজলুর রশিদ বলেন, এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ওই গৃহবধূর স্বামী বিদেশে থাকেন। হাফিজুর রাজশাহী শহরে একটা ক্লিনিকে চাকরি করেন এবং মাঝেমধ্যে ঐ বাড়িতে আসেন। শুক্রবার রাতে দুজনকে একই ঘরে অবস্থান করতে দেখার পর—এই ঘটনা ঘটে বলে এলাকাবাসী পুলিশকে জানিয়েছেন।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
