ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণের বাঁধ কেটে বালি-মাটি লুটছেন বিএনপির নেতারা
অনলাইন নিউজ ডেক্স
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের চরলামছি গ্রামে রাতের আঁধারে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। বারবার অভিযোগ করেও মাটিখেকোদের তৎপরতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে বেড়িবাঁধে ধস ও নদীভাঙন নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলছেন, তিনি দুদিন আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী।
জানা গেছে, উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের বড় ফেনী নদীর চরলামছি গ্রামের সড়কের শেষ প্রান্তে বেড়িবাঁধের পূর্ব পাশে ২০২৩ সালে নদীভাঙন থেকে আউটার বেড়িবাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থায়নে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে বেড়িবাঁধটি সুরক্ষা পায়।
অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আমিরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান, সাবেক জেলা যুবদলের সহসভাপতি মহিন উদ্দিন, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন ও নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে ওই সুরক্ষা বালি ও মাটি কেটে ডাম্প ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন বড় এক্সক্যাভেটর (খননযন্ত্র) ব্যবহার করে ট্রাকভর্তি বালি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আউটার বেড়িবাঁধ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের পর প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও বালি উত্তোলন বন্ধ হয়নি। ফলে বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
চরলামছি গ্রামের শামসুদ্দীন জানান, সরকার আউটার বেড়িবাঁধ রক্ষায় বালি দিয়েছিল। সেই বালি দস্যুরা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না। আমরা উদ্বেগ উতকণ্ঠার মধ্যে রয়েছি।
চরলামছি গ্রামের শিক্ষক হেলাল উদ্দিন জানান, ভয়ঙ্কর অবস্থা। বেড়িবাঁধ রক্ষায় সরকারি অর্থায়নে ফেলানো বালি-মাটি দস্যুরা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। বালি নিয়ে যাওয়ার কারণে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই গ্রামের হাজারো বাড়িঘর, হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির নদীতে তলিয়ে যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মনিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনকে বলবো দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। পাউবোর পক্ষ থেকে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারজান হোসাইন বলেন, আমি নতুন যোগদান করায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। কেউ এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ নেই।
খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
