৪৯তম বিসিএসে বাদ পড়ে অসুস্থ বাবা-মায়ের জন্য প্রার্থীর হাহাকার
অনলাইন নিউজ ডেক্স
৪৯তম বিসিএসে ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ পেয়েও গেজেট না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীমউদ্দীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. জসীম উদ্দীন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসা ও বোনদের পড়াশোনার দায়িত্বের কথা তুলে ধরে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানান তিনি।
জসীম উদ্দীন তার পোস্টে লেখেন, ‘৪৯ তম বিসিএস-এ ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছিলাম, কিন্তু এই রাষ্ট্রযন্ত্র আমাকে ১০ মাস ২০ দিনের ভেরিফিকেশান-রিভেরিফিকাশান শেষে গেজেট দেয় নি!’
তিনি লেখেন, ‘আমার বাবা-মায়ের চিকিৎসা খরচ, বোনদের পড়াশোনার দায়িত্ব এই রাষ্ট্র কখনও নেবে না আমি জানি; কিন্তু একই সাথে আমাকেও গেজেট দেবে না?’
সুপারিশ পাওয়ার পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার কথা জানিয়ে জসীম উদ্দীন লেখেন, ‘সুপারিশ প্রাপ্ত হয়ে আর আট-দশজন চাকরি প্রত্যাশীদের মতো আমিও খুশি হয়েছিলাম; পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম হিসাবে স্বপ্ন বুনেছিলাম। কখনও কোনো হামলা-মামলা, অন্যায়, অবিচারে যুক্ত ছিলাম না কিন্তু শিকার হয়েছি। আমাকে যারা কাছ থেকে চিনেন, তারা জানেন আমি কেমন এবং আমার সার্বিক অবস্থা!’
নিজের মেধা ও যোগ্যতায় চাকরির সুপারিশ পেয়েছেন দাবি করে তিনি লেখেন, ‘সরকার বাহাদুর আপনাকে বলছি, কারো দয়ায় কিংবা সুপারিশে চাকরিটা পাইনি। নিজের মেধা এবং যোগ্যতায় পেয়েছিলাম, যেটা কেঁড়ে নিয়ে আমার প্রতি চরম অন্যায়, অবিচার করেছেন!’
বাবার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও লেখেন, ‘আপনি সরকার বাহাদুর হলেও আমার বৃদ্ধ-অসুস্থ বাবার সামনে দাঁড়ানোর সৎ সাহস আপনার নেই। কারণ আমাকে অন্যায়, অযৌক্তিকভাবে বাদ দিয়েছেন। চাকরিটা আমার ভীষণ প্রয়োজন ছিল, ভীষণ!’
প্রথম পোস্টের কিছুক্ষণ পর জসীম উদ্দীন আরও একটি পোস্ট দেন। সেখানে ৪৯তম বিসিএসের যোগদানের দিন আগামী ১২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আত্মহুতির ঘোষণা দেন তিনি।
দ্বিতীয় পোস্টে জসীম উদ্দীন লেখেন, ‘সময়টা ২০১০ সালের ডিসেম্বর, তিউনিসিয়ার যুবক মোহাম্মদ বোয়াজিজি (Mohamed Bouazizi) রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়নে শেষ পর্যন্ত শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহুতি দিলেন। তার জীবনের বিনিময়ে পুরো আরব বিশ্বে বেশ পরিবর্তন এসেছিল। আজ থেকে সে আমার আইডল।’
‘ঘোষণা’ শিরোনামে তিনি আরও লেখেন, ‘৪৯ তম বিসিএস-এর জয়েনিং (১২ অক্টোবর) দিন সন্ধ্যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আমিও শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহুতি দেওয়ার ঘোষণা দিলাম।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘আমার জীবনের বিনিময়ে হয়তো কিছুই অর্জিত হবে না কিন্তু ভেরিফিকেশান নামক হয়রানি এবং গেজেটের দাসত্ব থেকে এই জাতির মেধাবী সন্তানরা মুক্ত হোক সেই কামনা রইল।’
জসীম উদ্দীনের এসব অভিযোগ ও বক্তব্যের বিষয়ে বুধবার রাত পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
