আইপিইউতে শেখ হাসিনার অভিযোগ: মৃত্যুদণ্ড, বিচার, নিষেধাজ্ঞা ও শতাধিক এমপির আটক নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি
অনলাইন নিউজ ডেক্স
আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৫৩তম অ্যাসেম্বলি শুরুর এক সপ্তাহ আগে সংস্থাটির মানবাধিকার কমিটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অভিযোগে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায়, বিচার প্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং শতাধিক সাবেক সংসদ সদস্যের আটক নিয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত চাওয়া হয়েছে।
লন্ডনের আইনি প্রতিষ্ঠান ম্যাট্রিক্স চেম্বার্স সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জানায়, ব্যারিস্টার স্টিভেন পাউলস কেসি শেখ হাসিনার পক্ষে এই অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও স্পষ্টতই অন্যায্য” বলা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, বিরোধী রাজনৈতিক মতের বিচারকদের দিয়ে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের ভয় দেখানোয় তিনি নিজের আইনজীবী বেছে নিতে পারেননি এবং নিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও নির্বাচনের বৈধতা
২০২৫ সালের মে মাসে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, বর্তমান বিএনপি সরকারও তা বহাল রেখেছে। ফলে দলটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি প্রধান রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজন আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তির (আইসিসিপিআর) ১৯, ২১, ২২ ও ২৫ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর ফলে ওই নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
শতাধিক সাবেক এমপি বিনা বিচারে আটক, দাবি
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের দুই বছরের বেশি সময় পরও ১০০ জনের বেশি সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি বিনা বিচারে কারাগারে আছেন। যেসব ক্ষেত্রে বিচার হয়েছে, সেখানেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার পরও হামলাকারীদের ঢালাওভাবে দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরুশা সম্মেলনে আলোচনার সম্ভাবনা
আইপিইউর ১৫৩তম অ্যাসেম্বলি ৫ থেকে ৯ অক্টোবর তানজানিয়ার আরুশায় অনুষ্ঠিত হবে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ভাষ্য, এই অভিযোগ সম্মেলনে বাংলাদেশকে নতুন করে চাপের মুখে ফেলবে।
এর আগে আইপিইউ চার সাবেক আওয়ামী লীগ এমপির আটক নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তথ্য চেয়েছিল। তখন বাংলাদেশ জানিয়েছিল, সবকিছু জাতীয় আইন অনুযায়ী হচ্ছে।
গত আগস্টের শেষে আইপিইউ মহাসচিব আন্দা ফিলিপের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার ও আইন প্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই সফর সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলটি সাবেক এমপিদের হয়রানি ও নিপীড়নের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণ আরুশা সম্মেলনে আলোচিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি এখন ব্যক্তিগত মামলা থেকে সরে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থার বৈধতার প্রশ্নের দিকে যাচ্ছে। আইপিইউর কোনো সমালোচনামূলক সিদ্ধান্ত জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মনোযোগও বাংলাদেশের দিকে টানতে পারে।
