তৃতীয় দফায় বাড়ল শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের ব্যয়: ৯৯.৯৩% কাজ শেষ হওয়ার পরও বাড়তি খরচ ৮৪৮ কোটি টাকা
অনলাইন নিউজ ডেক্স
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ, তবু সরকার প্রকল্পটির ব্যয় আরও প্রায় ৮৪৮ কোটি টাকা বাড়িয়েছে। তৃতীয় দফা সংশোধনে মেয়াদও এক বছর বেড়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত গেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সংশোধনটি অনুমোদন পায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এবং মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশোধনের পর প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি টাকার বেশি।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৯৫.২৩ শতাংশ ও বাস্তব অগ্রগতি ৯৯.৯৩ শতাংশ। সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালুর ঘোষণা দিয়েছে।
একনেকের পর ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন
একনেকের পর সাংবাদিকেরা জানতে চান, এক শতাংশেরও কম কাজ বাকি থাকার সময় নতুন করে ব্যয় ও সময় বাড়ানো কতটা যৌক্তিক।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম শাকিল আকতার জবাবে বলেন, টার্মিনালটি চালু করতে হলে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা ও ইমিগ্রেশনের যন্ত্রপাতির মতো অপরিহার্য বিষয়গুলো থাকতে হবে, যা এখনো অসম্পূর্ণ। ১৬ ডিসেম্বর আংশিক উদ্বোধনের পরও এসব কাজ শেষ করতে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো দরকার বলে তিনি জানান।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বাড়তি ব্যয়ের হিসাব দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী:
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজন ৬৬৭.৪৮ কোটি টাকা। টার্মিনাল চালু না হলেও এই খরচ চলছে।
ঠিকাদার পরিবর্তনজনিত বিরোধ নিষ্পত্তিতে আপস কমিটির সুপারিশে বাড়ছে ২৯৪.৬৬ কোটি টাকা।
কাজ এগিয়ে নিতে গিয়ে জমে থাকা বকেয়াও পরিশোধ করতে হবে।
ভিআইপি সুবিধা, মালামাল পরিবহন ব্যবস্থা, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগারের পরীক্ষণসহ অবশিষ্ট কাজের তদারকিতে পরামর্শক ব্যয় বাড়ছে ২০ কোটি টাকা।
শুল্ক, কর ও ভ্যাটসহ সরকারি অর্থায়নের খাতে ব্যয় কমছে ১৩৪.২৩ কোটি টাকা।
সব মিলিয়ে নিট বৃদ্ধি ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
শুরুর তুলনায় ব্যয় ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে
২০১৬ সালে অনুমোদনের সময় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়। মূল মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত, পরে একাধিকবার তা বাড়ানো হয়েছে।
মূল ব্যয়ের তুলনায় বর্তমান ব্যয় প্রায় ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বা ৬৩ শতাংশের মতো বেশি।
অসমাপ্ত কাজ নিয়ে প্রশ্ন
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সংসদে জানিয়েছিলেন, ভবন নির্মাণ হলেও এর সঙ্গে যুক্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ হয়নি, আর টার্মিনালের অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফারের (ওআরএটি) প্রায় ৫৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের সঠিক তারিখ যাচাই করা যায়নি।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, মাটির অবস্থার কারণে স্ক্রুড পাইলিংয়ের বদলে বোর পাইলিং করা হলেও নকশা বদলাচ্ছে না এবং তাতে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। তখনই ব্যয় ফের বাড়ার আলোচনা চলছিল।
সরকারের পদক্ষেপ
একনেক সভায় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি নীতিমালা তৈরির সিদ্ধান্তও হয়েছে, যাতে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হয়। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশও দিয়েছেন।
