প্রকাশিতঃ মার্চ ৫, ২০২৫

বিলুপ্ত প্রায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হারিকেন


বিলুপ্ত প্রায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হারিকেন
বাংলাদেশ ডাক বিভাগের লোগো মনে করিয়ে হারিকেনের কথা, গ্রামীণ জনপদের বাংলার ঐতিহ্যবাহী হারিকের স্থান দখল করে নিয়েছে বিদ্যুৎ ও সোলার লাইট। কালের স্রোতে হারিয়ে যেতে বসেছে এক সময়ের বিস্ময় আলোক বাতি হারিকেন। গ্রামীন জনগোষ্ঠীর ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল পরিবারের মাঝেই ছিল হারিকেন, সেই আলোকিত বাতি এখন বিলুপ্তির পথে। সন্ধ্যার পর হতেই রাতের অন্ধকার দূর করতে একটা সময় দেশের প্রতিটি গ্রামের মানুষের অন্যতম ভরসা ছিল হারিকেন, দোয়াত ও কুপি বাতি। ৯০ দশকের পূর্বে ও কিছুকাল পর দেশে বিদেশি চাকরিসহ নানা পেশায় উচ্চপর্যায়ে কর্মরত থাকাদের মধ্যে অনেকেই পড়ালেখা করেছেন এই হারিকেনের মৃদু আলোয়। গৃহস্থালি এবং ব্যবসার কাজেও হারিকেনের ছিল ব্যাপক চাহিদা। বিয়ে জন্মদিন বা পারিবারিক কোন অনুষ্ঠানে লোকের সমাগম হলে ব্যবহার হতো হ্যাজাক, পাশাপাশি জমা রাখা হতো এই হারিকেন। সময়ের পরিবর্তনের পাশাপাশি হারিকেনের স্থান দখল করেছে নানা ধরনের বৈদ্যুতিক, রিচার্জার বাতি। বৈদ্যুতিক ও চায়না বাতির কারণে গ্রাম ও শহরে হারিকেনের ব্যবহার বন্ধ হয়েছে। সেই আলোর প্রদীপ হারিকেন এখন গ্রাম থেকেও প্রায় বিলুপ্ত । একটা সময় রানার ছুটতো ডাক নিয়ে বল্লম হাতে হারিকেন ঝুলিয়ে হারিকেন জ্বালিয়েই বাড়ির উঠানে বা বারান্দায় পড়াশোনা করত শিক্ষার্থীরা। রাতের বেলায় পথ চলার জন্য ব্যবহার করা হত হারিকেন। হারিকেনের জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন, তৈল আনার জন্য প্রায় বাড়িতেই থাকত কাচের বিশেষ ধরনের বোতল। সেই বোতলে রশি লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হতো বাড়ির নিদিষ্ট স্থানে। গ্রাম গঞ্জের হাটের দিনে সেই রশিতে ঝোলানো বোতল হাতে নিয়ে যেতে হতো হাট-বাজারে। এ দৃশ্য বেশি দিন আগের নয়। পল্লী বিদ্যুতায়নের যুগে এখন আর এমন দৃশ্য চোখে পড়ে না। বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য দোয়াত, কুপি ও হারিকেন এখন শুধুই স্মৃতি হিসেবে অনেকের বাড়িতেই দেখা যাচ্ছে। তবে অনাদর আর অবহেলার পাত্র হিসেবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের লোগোটি এখনএ হাতে হারিকেন ও বস্তাবন্দি চিঠিসহ লাঠি নিয়ে ছুটে চলে তার কর্ম পালনে। নিত্য নতুন প্রযুক্তি মানুষকে উন্নত করছে তাই হারিকেন ছেড়ে মানুষ এখন সৌর বিদ্যুৎ সহ বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে। তাপবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুত, সৌরবিদ্যুৎসহ জ্বালানি খাতে ব্যাপক উন্নয়নে ঐতিহ্যবাহী হারিকেন বিলুপ্তির পথে। বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার , যেমন চার্জলাইট, সৌরবিদ্যুৎসহ বেশ কিছু আলোর জোগান থাকায় এখন আর কেউ-ই ঝুঁকছেন না হারিকেন, দোয়াত, কুপি বাতি বা হ্যাজাকের দিকে। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেও না হারিকেন কী ও হারিকেনের ইতিহাস! প্রবীণদের থেকে জানাগেছে দেশ স্বাধীনের পূর্ব হতেই কেরোসিনের বাতি এবং পরবর্তীতে হারিকেন ব্যবহার করা হতো। দিনদিন প্রযুক্তির উন্নতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য এখন আর হারিকেন, দোয়াত, কুপি বাতি বা হ্যাজাকের ব্যবহার না করলেও স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছি। কালের বিবর্তনের সাথে সাথে সবকিছুই পরিবর্তন ঘটেছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা র্দীর্ঘ দিন যাবৎ ব্যাবসা করছি সেই অনেক আগের কথা দোকানে হারিকেন, কুপি, হ্যাজাক, দোয়াত বাতি বিক্রি করতাম। এখন আর হারিকেন, কুপি বেচা কেনা নেই। অনেকেই বলেন বাংলার ঐতিহ্য ও অতীতের স্মৃতি হারিকেন কালের স্বাক্ষী । কালের পরিবর্তনে দেশ এগিয়ে চলছে তাই অতীতের চিত্র হারিকেন হারিয়ে যাচ্ছে। বাপ দাদার আমলের স্মৃতি হারিকেনের আলোতে আলোকিত হয়েছি পড়াশোনা করে, সেই আলোর হারিকেন ও কুপী বাতি আজ বিলুপ্তির পথে, অতীতের স্মৃতি হারিকেন নতুন প্রজন্মের জন্য ধরে রাখা দরকার। হারিকেন আমাদের পরম বন্ধু ছিল, হারিকেন জ্বালিয়ে আমরা লেখাপড়া করেছি। এখনকার ছাত্রছাত্রীদের কাছে হারিকেন এর কথা কাল্পনিক মনে হবে। ঘরে বিদ্যুৎ, সোলার থাকায় আজ হারিকেন এর কোন প্রয়োজন বা কদর নেই, তবে ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য হারিকেন এর বিষয়ে ইতিহাসে স্থান দেওয়া উচিত। , হারিকেন এর ঐতিহ্য বাংলার মানুষের অন্তরে মিশে আছে এবং থাকবে।

সর্বশেষ :

নাম বদলে ‘উজ্জ্বল’ থেকে ‘আয়াস’: জুলাই চেতনার বড়ি বেচে চাঁদাবাজি-মবের হোতা   নাম বদলে ‘উজ্জ্বল’ থেকে ‘আয়াস’: জুলাই চেতনার বড়ি বেচে চাঁদাবাজি-মবের হোতা পরীক্ষার সময় পায়খানায় ফোন ব্যবহারে নকল, ঢাবির হল সংসদের শিবির নেতার সাজা   পরীক্ষার সময় পায়খানায় ফোন ব্যবহারে নকল, ঢাবির হল সংসদের শিবির নেতার সাজা তেজগাঁও কলেজের মসজিদের ভেতরে জঙ্গিদের গোপন বৈঠক থেকে আটক ২৩   তেজগাঁও কলেজের মসজিদের ভেতরে জঙ্গিদের গোপন বৈঠক থেকে আটক ২৩ মানবতার লজ্জাজনক পরাজয়: ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যার দুই বছর হলেও শুরু হয়নি বিচার   মানবতার লজ্জাজনক পরাজয়: ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যার দুই বছর হলেও শুরু হয়নি বিচার সকালে চা খেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা   সকালে চা খেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা শামীম মোল্লা হত্যা: দুই বছরেও হয়নি তদন্ত, উল্টো আসামি থেকে ছাত্রশক্তির সভাপতি   শামীম মোল্লা হত্যা: দুই বছরেও হয়নি তদন্ত, উল্টো আসামি থেকে ছাত্রশক্তির সভাপতি হুথিদের কাছে ‘সেইফ প্যাসেজ’ নিশ্চিত করে সৌদিকে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি: যুক্তরাষ্ট্রের “জিরো-সাম গেইম”   হুথিদের কাছে ‘সেইফ প্যাসেজ’ নিশ্চিত করে সৌদিকে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি: যুক্তরাষ্ট্রের “জিরো-সাম গেইম” যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের বিবৃতি: ক্যাঙ্গারু কোর্টে আওয়ামী লীগের ৭ নেতার রায়ের তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ   যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের বিবৃতি: ক্যাঙ্গারু কোর্টে আওয়ামী লীগের ৭ নেতার রায়ের তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ