আরব আমিরাতে ৪ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, এখনও সমাধানের পথ খুঁজছে সরকার
অনলাইন নিউজ ডেক্স
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীর ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই অবগত আছেন এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভিসা বাতিলের শিকার হওয়া প্রবাসীরা। “রেমিট্যান্স যোদ্ধা ঐক্য” নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে তারা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন
দ্রুত পুনর্বাসন এবং পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত মাসিক ১৫-২০ হাজার টাকা সহায়তা ভাতা
ইউএইতে ফেরা সম্ভব না হলে বিকল্প কোনো দেশে সরকারি উদ্যোগে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা
আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ভিসা জটিলতার দ্রুত সমাধান
দূতাবাস ও কনস্যুলার সেবা আরও কার্যকর করা
দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা কর্মীদের জন্য প্রবাসী পেনশন বা কল্যাণ ভাতা কর্মসূচি চালু
দাবি বাস্তবায়িত না হলে “রেমিট্যান্স শাটডাউন” কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি
জুলাই মাসের শেষদিকে দুবাইসহ আরব আমিরাতে হঠাৎ বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিল হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যখন সরকারিভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য ছিল না। এ সময় প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের গুজব ওঠে। জুলাইয়ের শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে জানান, ৫ হাজার নয়, বরং সরকারি হিসাবে ৬২৬ জন বাংলাদেশির ভিসা “স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল” হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪১৭ জনের তথ্য ইতিমধ্যে নবায়নের জন্য ইউএই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি এটাও বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, নেপাল, পাকিস্তান, মিশর ও ফিলিপাইনের নাগরিকদেরও একই ধরনের সমস্যা হয়েছে।
তবে সেপ্টেম্বরে এসে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের বক্তব্যে ফের ৪ হাজার সংখ্যাটি সামনে এসেছে, যা জুলাইয়ের সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি — অর্থাৎ পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
