প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, এখানে অন্যায়টা কোথায়?- অদ্ভুত যুক্তি বিএনপির এমপি বাবুলের!


জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, এখানে অন্যায়টা কোথায়?- অদ্ভুত যুক্তি বিএনপির এমপি বাবুলের!
আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী, সেখানে হঠাৎ করে দেশে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন, কেরোসিনসহ সকল ধরনের জ্বালানি তেলের লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। আর এর পক্ষে সাফাই গাইলেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল। বেসরকারি টিভি চ্যানেল একাত্তর টেলিভিশনের এক টকশোতে এসে তিনি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে অদ্ভুত যুক্তি দাঁড় করিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের সাফাই গেয়ে বললেন, জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এইখানে অন্যায়টা কোথায় হয়েছে? এর পক্ষে তিনি কিছু অসংলগ্ন তথ্য-যুক্তি দেওয়ারও চেষ্টা করেন এসময়। পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে অজুহাত দেখিয়ে দেশে বৃদ্ধি করা হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। জ্বালানি তেলের এই আকাশছোঁয়া দরবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ। সেই আগুনে ঘি ঢেলেছেন সরকারদলীয় ফজলে হুদা বাবুল। সরেজমিনে দেখা যায়, পেট্রোল পাম্পগুলোতে আসা চালক ও সাধারণ ভোক্তারা এই সিদ্ধান্তকে চরম অন্যায্য ও অসংবেদনশীল বলে মন্তব্য করছেন। পাম্পে তেল নিতে আসা একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আগেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে, তার ওপর তেলের দাম বাড়ায় যাতায়াত ও জীবনযাত্রার সার্বিক খরচ আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। ক্ষুব্ধ এক বাইকার মন্তব্য করেন, দেশের সাধারণ মানুষ যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন নতুন করে তেলের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বৈশ্বিক বাজারের নানা যুক্তি দেখানো হলেও সাধারণ ক্রেতাদের বক্তব্য একটাই—এ ধরনের সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন একমাত্র খেটে খাওয়া ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষ। বিশেষজ্ঞ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহন খাত ও খাদ্যপণ্যের সরবরাহে। ফলে যাতায়াত ভাড়ার পাশাপাশি বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম আরও এক দফা লাফিয়ে বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ অনতিবিলম্বে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্বিবেচনা ও বাজারে কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।