আসিফ নজরুলের বাচ্চা মেয়েটার জন্য খুবই খারাপ লাগলো। তার মেয়েটা কি পরিমাণ ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে সেটা একটা শিশুর বেড়ে উঠার জন্য নিঃসন্দেহে ভালো কিছু নয়। মেয়েটার জন্য সহানুভূতি এবং ভালোবাসা রইলো।
ছাগল চুরির ঠিক একই সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থকদের উপরে নিপীড়ন হচ্ছিলো। খুন, ধর্ষণ, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ কি না হয়েছে। আসিফ নজরুলরা সে সময়ে এগুলোতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এসব নির্মমতা এখনো প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ঘটছে।
এসব ঘটনার ভিকটিমেরা এবং তাদের পরিবারগুলো কি পরিমাণ ট্রমা, ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে গেছেন সেটা পরিমাপ করা দুরূহ।
আসিফ নজরুলের নিজের মেয়ের ট্রমার দিকে তাকিয়েও ঐ মানুষগুলো এবং তাদের পরিবার, সন্তানদের প্রতি কোন সহানুভূতি জন্মায় নাই। অথচ, কি মানবিকতার সবকটাই না তারা আমাদের দেন। আবারো সুযোগ পেলে দিবেন।
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। কোন কিশোর নন, টিনেজারও নন। সে একটা বাচ্চার মেয়ের পোষা ছাগল চুরি করার লোভ সামলাতে পারে নাই।
তারপরে ছাগলটাকে আংশিক জবাই করে বহুক্ষণ ফেলে রেখেছিল। কারণ বটি দিয়ে কাজটা করা সম্ভব হচ্ছিলো না। পরে কাওরানবাজার থেকে চাপাতি এনে কাজ সম্পন্ন করে।
আমরা বহু মানুষ মাংস খাই। বাঁচার জন্য খাই। রসনা বিলাসের জন্যও খাই। কিন্তু এজন্য কোন নির্মমতার আশ্রয় নেই না।
একটা বাচ্চার মেয়ের পোষা ছাগল দেখে কোন প্রকারের দয়ামায়াহীন মানুষ হলে সেটা চুরি করে খাওয়ার খায়েশ হতে পারে। একটা বাচ্চা মেয়ের ছাগল দেখে লোভ সামলাতে পারে না যারা তারা দুর্নীতির লোভ সামলাতে পারবে সেটা তো অসম্ভব।
ফলাফলে এরা সবাই আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। রিকশা ভাড়া যাদের পকেটে ছিল না তারা এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। কোটি টাকা দামের গাড়িতে চড়ে। বিলাসবহুল এপার্টমেন্টে থাকে।
এদের হাতে দেশ, দেশের সাড়ে সর্বনাশ। ফলাফলে লুটপাটের স্বর্ণযুগ যাচ্ছে। কেউ লুটছে গ্যাস বেশি দামে কিনে, কেউ লুটছে বোয়িং বিমানের কমিশন খেয়ে, কেউ লুটছে চাঁদাবাজি করে।
এসব টাকা তো আসমান থেকে আসে না। সাধারণ মানুষের পকেট থেকে যায়। বিদ্যুৎ এর দাম বাড়িয়ে, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে, দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে পকেট থেকে টাকাগুলো নেয়া হচ্ছে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং তাদের দেশী সহযোগীদের হাতে দেশ। ইংরেজরা ক্ষমতা নেয়ার মাত্র এক দশকের মাঝে পৃথিবীর সবচাইতে সমৃদ্ধশালী দেশ থেকে বাংলা রুপান্তরিত হয় দুর্ভিক্ষ পীড়িত এক দেশে।
৭২ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি থেকে প্রায় অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারে পরিণত হওয়া অর্থনীতিতে লুটপাটের মচ্ছব যাচ্ছে এখন। ওদিকে বিদ্যুৎ বিল আর বাসা ভাড়ার পরিমাণ এখন কাছাকাছি চলে গেছে। মানুষের সুখ-দুঃখ কষ্টে তাদের কি আসে যায়!