আত্রাইয়ের ভাঙা ব্রিজ যেন এক মরণ ফাঁদ
নাসির উদ্দিন, উপজেলা সংবাদদাতা, আত্রাই, নওগাঁ
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের তারাটিয়া ছোটডাঙ্গা বাজারে রতনডারি খালের উপর নির্মিত ব্রীজটির মাঝখানে গত এক বছর আগে ভেঙ্গে যায়, ব্রিজের দুপাশে সড়কের সাথে সংযোগ অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ,হওয়ায় এলাকার কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা সহ কয়েক গ্রামের বাসিন্দাদের অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার কবলে পরছেন তারা। এছাড়া পুরো ব্রীজটিই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যেকোন সময়ে ধসে পরে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ থেকে রতনডারি খালের উপর সরু একটি ব্রীজ নির্মান করা হয়। এই ব্রীজ দিয়ে উঁচল, কাশিমপুর,ঝনঝনিয়া,ছোটডাঙ্গা, চাপড়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের লোকজন প্রতিনিয়ত চলাচল করেন। এরই মধ্যে গত এক বছর আগে ব্রীজের মাঝখানে ভেঙ্গে ধ্বসে পরলে কাঠের পাটাতন দিয়ে কোন রকমে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। এছাড়া ব্রীজের অধিকাংশ স্থানে ভাঙ্গন ধরায় যে কোন সময় পুরো ব্রীজ ধসে পরার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় এছাহক সরকার জানান, খালের উত্তর মাঠে আমাদের কৃষি জমি রয়েছে। ধান কেটে ঘরে তোলা বা এপার থেকে ওই পারে বিভিন্ন মালামাল পরিবহনের সময় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, গত সপ্তাহে লিটন নামে একজনের প্রায় একলাখ টাকা দামের একটি গরু ভাঙ্গা অংশে পরে পা ভেঙ্গে যায়।
ছোটডাঙ্গা গ্রামের ভ্যান চালক গকুল হোসেন বলেন, সিমেন্ট বোঝাই করে ভ্যান নিয়ে ব্রীজ পারাপারের সময় উল্টে খালের মধ্যে পরে যাই। এতে সবগুলো সিমেন্ট নষ্ট হয়ে যায়। তিনি আরো বলেন,ব্রীজের এমন নাজুক পরিস্থিতি হয়েছে যে,যে কোন সময় পুরো ব্রীজই ভেঙ্গে পড়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ছোটডাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মিল্টন হোসেন বলেন, ব্রীজটি নতুন করে নির্মান করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করেছি। এরপর অফিস থেকে এসে তদন্ত করে গেছেন।
সাহাগোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন,উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ থেকে প্রায় ১৪বছর আগে ব্রীজটি নির্মান করা হয়েছে। ব্রীজটি নতুন করে নির্মানের জন্য বেশ কয়েকটি আবেদন দিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনটায় হয়নি।
আত্রাই উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নিতিষ কুমার সরকার বলেন, নতুন ব্রীজ নির্মানের জন্য প্রকল্প আকারে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস এবং বরাদ্দ আসলেই নতুন করে ব্রীজ নির্মানের কাজ শুরু হবে।
